আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে মুখ খুলল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

শনিবার বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিষয়ে বিসিসিআই কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না। কারণ, এটা বোর্ডের এক্তিয়ারের মধ্যেই পড়ে না। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল।

এর আগে সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্টস টক’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসিকে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছে।

ওই চিঠিতে বিসিবির তরফে অনুরোধ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার মুম্বাইয়ে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্সের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং যুব ক্রিকেট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া, সভাপতি মিথুন মানহাস, সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা এবং সেন্টার অব এক্সেলেন্সের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সফর নিয়ে বিসিবির অনুরোধ প্রসঙ্গে দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, ‘বোর্ডের শনিবারের বৈঠক ছিল মূলত সেন্টার অফ এক্সেলেন্স এবং অন্যান্য ক্রিকেট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না বা কোথায় খেলবে এই বিষয়ে কথা বলা আমাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। আইসিসি এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

বিসিসিআই সচিবের বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশকে ঘিরে চলতি অনিশ্চয়তা নিয়ে ভারতীয় বোর্ড কোনও অবস্থান নিতে চাইছে না। গোটা বিষয়টি আইসিসির কোর্টেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিসিসিআই আইপিএলের অন্যতম ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় তাদের স্কোয়াড থেকে যেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বোর্ডের নির্দেশ মতো কেকেআর মুস্তাফিজকে রিলিজ দেওয়ার পরেই এই অনিশ্চয়তার সূত্রপাত হয় দুই বোর্ডের মধ্যে। আর দুই পক্ষের এই টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ক্রিকেটারদের ওপর।

বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে থাকা অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান চলতি পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘এই অনিশ্চয়তা ব্যবস্থাপনার বিষয়, এটা কর্মকর্তাদের দেখার কথা। ক্রিকেটারদের কাজ শুধু মাঠে নেমে খেলা।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের যদি মঙ্গল গ্রহেও পাঠানো হয়, খেলতে হলে আমরা সেখানেও খেলব। কোনও খেলোয়াড়েরই এ নিয়ে দ্বিধা আছে বলে আমি মনে করি না।’

তবে বাংলাদেশের গতবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, যিনি এবার দলে নেই, পরিস্থিতি নিয়ে ততটা আশাবাদী নন।

তাঁর বক্তব্য, ‘প্রতিটি বিশ্বকাপের আগেই আমাদের সঙ্গে কিছু না কিছু ঘটে। আমি কয়েকটা বিশ্বকাপ খেলেছি। এই ধরনের বিষয় খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে দেখাই যে কোনও কিছুই আমাদের প্রভাবিত করতে পারবে না। আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। কিন্তু বাস্তবে সেটা অভিনয়। এটা মোটেও সহজ নয়। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করে এসব পাশে রেখে দলের জন্য ভাল পারফরম্যান্স করতে। কিন্তু এমন পরিস্থিতি না থাকাই ভাল। তবে এসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, বিসিবি ভারত সফরে যাওয়া বিশ্বকাপ দলের প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা নিরাপত্তার জন্য নিশ্চয়তা চেয়েছে।

এর মধ্যে শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ ও কর্মকর্তারাও রয়েছেন। আইসিসি তাদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও একাধিক বিকল্প প্রস্তাব দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিসিবির হাতেই রেখে দিয়েছে।