আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৫–২৬ মরশুমের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তি ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনল বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া।
এই সিদ্ধান্ত কার্যত ভারতীয় ক্রিকেটের এক যুগের অবসান ঘটাল বলেই মনে করা হচ্ছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এতদিনের A+ ক্যাটাগরি পুরোপুরি বাতিল করে তিন স্তরের নতুন কাঠামো চালু করেছে বোর্ড।
এই পরিবর্তনের ফলে বড় চমক দেখা গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই সুপারস্টার বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে নামিয়ে আনা হয়েছে গ্রুপ বি-তে।
যদিও একে আপাতদৃষ্টিতে ‘ডিমোশন’ হিসেবে দেখা হলেও, বিসিসিআইয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে বর্তমানে দুই তারকা শুধু ওডিআই খেলছেন। সে কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দুই তারকাই ইতিমধ্যেই টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে এসে মূলত ওয়ানডে ফরম্যাটেই মনোযোগ দিচ্ছেন। ফলে সর্বোচ্চ স্তরের চুক্তির জন্য তাঁদের বর্তমান অবদান যথেষ্ট নয় বলেই বোর্ডের ব্যাখ্যা।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এখন সর্বোচ্চ স্তর হল গ্রুপ এ, যেখানে জায়গা পাচ্ছেন সেই ক্রিকেটাররাই, যাঁরা একাধিক ফরম্যাটে দলের ভরসা অথবা জাতীয় দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। এই বিশেষ তালিকায় মাত্র তিনজন ক্রিকেটার রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম দৈনিক জাগরণের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির পুরো তালিকাটি অনেকটা এরকম।
গ্রুপ এ: শুভমান গিল, যিনি বর্তমানে টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক, তারকা পেস বোলার জসপ্রীত বুমরা এবং অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজা।
গ্রুপ বি: রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দর, কে এল রাহুল, হার্দিক পাণ্ড্য, মহম্মদ সিরাজ, ঋষভ পন্থ, কুলদীপ যাদব, যশস্বী জয়সওয়াল, শ্রেয়াস আইয়ার।
গ্রুপ সি: অক্ষর প্যাটেল, তিলক ভার্মা, রিঙ্কু সিং, শিভম দুবে, সঞ্জু স্যামসন, অর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, আকাশ দীপ, ধ্রুব জুরেল, হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী, নীতিশ কুমার রেড্ডি, অভিষেক শর্মা, সাই সুদর্শন, রবি বিষ্ণোই, ঋতুরাজ গায়কোয়াড়।
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭ কোটি টাকার A+ ক্যাটাগরি তুলে দিয়ে বিসিসিআই এখন আর নাম বা অতীত কৃতিত্বকে নয়। বরং, বর্তমান পারফরম্যান্স, কাজের চাপ এবং একাধিক ফরম্যাটে নিয়মিত খেলার গুরুত্বকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
যদিও শীর্ষ স্তর তুলে দেওয়ায় সিনিয়র ক্রিকেটারদের আর্থিক দিক থেকে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবু বিসিসিআইয়ের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় চুক্তি ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবভিত্তিক ও মেধানির্ভর করে তুলবে, যেখানে অতীত নয়, বর্তমান ক্রিকেটে অবদানই হবে শেষ কথা।
