আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৬৩ রানে ৭ উইকেট! ৮.২ ওভারে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় ভারতের অর্ধেকের বেশি ব্যাটার। আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের মাটিতেও ভরাডুবি ভারতের। জঘন্য ব্যাটিং। যার কোনও ব্যাখ্যা বা উত্তর নেই। টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে দ্বিতীয় সিরিজ। আর প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই ব্যাটিং বিপর্যয়। আইরিশদের কাছে প্রথম সিরিজ হারের পর, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও মুখ থুবড়ে পড়ল ভারত। ২০ ওভারের শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান তোলে ইংল্যান্ড। সিরিজে টিকে থাকতে এদিন জিততেই হত। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে মুখ পুড়ল ভারতীয় ব্যাটারদের। ঘরের মাঠে বাঘ, বাইরে ইঁদুর। এই আপ্তবাক্য শ্রেয়স আইয়ারদের জন্য আদর্শ। ৭৬ রানে শেষ ভারতের ইনিংস। ১২৫ রানে হার। টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। সবচেয়ে লজ্জারও। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান। ১৮ বছর আগে ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৭৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ভারত। 

ইংল্যান্ড সিরিজে বৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর বাকি দুই ম্যাচে হার। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ০-২ তে পিছিয়ে ভারত। সিরিজ হারের মুখে টিম ইন্ডিয়া। টি-২০ অধিনায়কের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও জয়ের মুখ দেখেননি শ্রেয়স আইয়ার। নটিংহ্যামের উইকেটে কোনও জুজু ছিল না। এই পিচেই দুশো রানের গণ্ডি পেরোয় ইংল্যান্ড। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের পেসারদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ। জোফ্রা আর্চার, যশ টংদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারেনি ভারতীয় ব্যাটাররা। পরিকল্পনাহীন ব্যাটিং। ভারতের ফ্ল্যাট পিচে ব্যাট করে অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে ব্যাটারদের। বল বিচার করার কোনও ক্ষমতাই নেই। সব বলেই বড় শট হাঁকানোর চেষ্টা। ইংল্যান্ডের উইকেট আর ভারতীয় পিচ যে এক নয়, এটা ভাবার বোধশক্তি নেই ভারতীয় ব্যাটারদের? 

সব বলে একই শট! বর্তমানে টি-২০ ক্রিকেটের যুগ। টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেট ছেড়ে টি-২০ তে ঝুঁকেছে তরুণ প্রজন্ম। তাই 'ক্রিকেট ব্যাকরণ' শব্দটা বর্তমান ভারতীয় দলের ব্যাটারদের অভিধানেই নেই। বল ধরে খেলার ক্ষমতা নেই, একইসঙ্গে নেই টেম্পারামেন্টও। ২০১ রান তাড়া করতে নেমে ওভার প্রতি ১০ রান রাখতে হবে জিততে হলে। কিন্তু পরপর যখন উইকেট হারাচ্ছে দল, একটা পার্টনারশিপ ম্যাচের রং বদলে দিতে পারত। কিন্তু তার কোনও চেষ্টাই করেনি ভারতীয় ব্যাটাররা। পরপর উইকেট হারানো সত্ত্বেও আগ্রাসী মনোভাব জারি। একের পর এক বেহিসেবী শট খেলে আউট। কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেন অভিষেক, শ্রেয়স, ঈশান, তিলকরা। মাত্র চারজন দুই অক্ষরের রানে পৌঁছতে পারে। তারমধ্যে সর্বোচ্চ বৈভব সূর্যবংশী এবং ঈশান কিষাণ। দু'জনের রান ১৩। 

পাঁচটা

টসে জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান শ্রেয়স। শুরুতেই ভুল সিদ্ধান্ত। এই দলের বড় রান তাড়া করে জেতার টেম্পারামেন্ট এবং মানসিকতা নেই। দলে একজন বিরাট কোহলি নেই। যে স্নায়ু ধরে রেখে, অঙ্ক কষে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়বে। তাই আগের ম্যাচ হারলেও, শ্রেয়সের উচিত ছিল প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বোর্ডে বড় রান তোলার চেষ্টা করা। সেখানে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান। হ্যারি ব্রুক, জেকব বেথেল, টম ব্যান্টনরা রান না পেলেও, ফিল সল্ট (৭০) এবং শ্যাম করনের (৪১) জুটিতে ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। বাটলারও গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ রান যোগ করেন। রান তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ভারত। নিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে আবার জোড়া ছক্কা মেরে শুরু করেন বৈভব সূর্যবংসী। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। আর্চারের গতিতে পরাস্ত হন। শর্ট বল হুক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে বাটলারের হাতে ধরা পড়েন। ৫ বলে ১৩ করে আউট ১৫ বছরের ক্রিকেটার। বাকিরা এলেন এবং গেলেন। বলিহারি যায় গৌতম গম্ভীরের। এমন পরিস্থিতিতেও ম্যাচ আপ করানোর ভাবনা। ডান হাতি - বাঁ হাতি কম্বিনেশন ধরে রাখতে সাত নম্বরে শিবম দুবের জায়গায় হর্ষিত রানাকে নামানো হয়। এই পদক্ষেপের কোনও ব্যাখ্যা নেই।