আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা অনয়া বাঙ্গার জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডে সফলভাবে তাঁর জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে অনায়া জানান, তাঁর এই যাত্রায় একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তিনি একটি হাসপাতালের ছবি শেয়ার করেন, যেখানে সার্জারির পর বাবার সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। অনয়া এই মুহূর্তকে তাঁর ‘গভীর অর্থ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অনায়া লেখেন, ‘এই যাত্রা শুধু আমার জন্যই কঠিন ছিল না, আমার পরিবারের জন্যও সহজ ছিল না। আমাকে বোঝা, মেনে নেওয়া এবং পাশে দাঁড়াতে সময় লেগেছে। সবকিছু একদিনে হয়নি। বিভ্রান্তি, প্রশ্ন এবং ধীরে ধীরে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়েছি। কিন্তু আজ এখানে দাঁড়িয়ে আমি শুধুই কৃতজ্ঞতা অনুভব করছি।’
তিনি আরও জানান, এই কঠিন সময়ে তাঁর বাবার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পোস্টে অনয়া যোগ করেন, ‘আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাবাকে পাশে পাওয়া আমার কাছে সবকিছু। তাঁর সমর্থন একদিনে আসেনি, কিন্তু যখন এসেছে, তা ছিল নিঃশর্ত এবং দৃঢ়। এই সার্জারি আমার জন্য বড় পদক্ষেপ, কিন্তু বাবাকে পাশে পেয়ে সেটা সম্ভব হয়েছে। পরিবর্তন সময় নেয়, ভালবাসাও সময় নেয়, কিন্তু যখন আসে, তা সব মিটিয়ে দেয়। আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব।’
উল্লেখ্য, মার্চ মাসে যে তাঁর লিঙ্গ নিশ্চিত অস্ত্রোপচার হবে তা আগেই ঘোষণা করেছিলেন সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা। নিজের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি।
জানান, শেষপর্যন্ত তাঁর এই যাত্রায় পরিবারকে পাশে পেয়েছেন। ছোট ভাই অথর্ব বরাবরই তাঁকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত বাবা, মায়ের সাপোর্ট পাননি।
তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা সৃষ্টি হয়। তৈরি হয় দূরত্ব। কিন্তু অবশেষে সন্তানের পাশে দাঁড়ান। অনয়া জানান, অস্ত্রোপচারের সমস্ত খরচ বহন করবেন সঞ্জয় বাঙ্গার।
অনয়া বলেন, ‘মার্চে লিঙ্গ নিশ্চিত করার অস্ত্রোপচার হবে আমার। ফ্যাশন ডিজাইনার সৈশা শিন্দে এবং অভিনেত্রী ত্রিনেত্রা হালদার গুম্মারাজুও এই পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ওরা আমাকে সাহায্য করেছে। থাইল্যান্ডে ওরা যেখানে করেছিল, সেই একই জায়গায় আমারও অস্ত্রোপচার হবে। সেখানে আমাকে প্রায় এক মাস থাকতে হবে। তারপর আমাকে কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে। অন্তত ছয় মাস আমি ক্রিকেট খেলতে পারব না। তবে অবশেষে এটা হচ্ছে, তাই আমি খুশি। পাঁচ বছর এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। এটাই আমি। আমি যে লিঙ্গ নিয়ে জন্মেছিলাম, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারছিলাম না। দীর্ঘদিন ধরে থেরাপি, মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট এবং মানসিক প্রস্তুতির পর আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি।’
এর আগে অনয়া জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা সঞ্জয় বাঙ্গার তাঁকে বলেছিল, ক্রিকেটে তাঁর আর কোনও ভবিষ্যৎ নেই। কিন্তু রূপান্তকারীদের খেলাধুলোর অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন বাঙ্গার কন্যা।
অনয়া বলেন, ‘আমি মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। আর্থিকভাবেও আমি ভাল জায়গায় ছিলাম। বাবা দেখেছে লোকের আমার সঙ্গে ছবি তোলার আগ্রহ। আমার পাশে দাঁড়াতে, শ্রদ্ধা করতে দেখেছে। তারপর সবাই বুঝেছে আমার এই বিষয়টা সাময়িক নয়। দেখেছে আমি আমার জীবন এবং পছন্দ নিয়ে কতটা সিরিয়াস। তাতেই হয়তো ওদের মত বদলেছে। আমার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার বাবা অস্ত্রোপচারের পুরো অর্থ বহন করছে। একটা সময় আমি ইউকেতে সম্পূর্ণ একা ছিলাম। এখনও পরিবারগুলোর মধ্যে এলজিবিটিকিউ প্লাস সম্প্রদায়কে নিয়ে অন্যরকম ধারণা রয়েছে। আশা করছি, আমার জীবন বাকি রূপান্তকারী মহিলাদের সাহায্য করবে। বাড়িতে হয়ত খুলে বলতে পারবে। আমাদের দেশে এখনও লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা যায় না। সেখানে আমি আমার বাবা-মাকে পাশে পেয়েছি।’
আর কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন রূপে নিজেকে আবিষ্কার করবেন বাঙ্গার কন্যা। তবে এই পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। একটা সময় ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররাই তাঁকে নগ্ন ছবি পাঠাত।
অনয়ার সঙ্গে সহবাসের ইচ্ছাপ্রকাশ করত। এই ঘটনা মনের কোণে জমা রাখতে হয়েছিল। নিজের পরিবারকেও জানাতে পারেননি। কিন্তু সেসব এখন অতীত। এবার নতুন জীবন পেতে চলেছেন বাঙ্গার কন্যা।
