আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিলক ভার্মার অস্ত্রোপচার ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মধ্যে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তিনি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিট না হন, তবে তাঁর পরিবর্তে কাকে বেছে নেবে ভারত?

বিসিসিআই সূত্রে খবর, বিজয় হাজারে ট্রফিতে হায়দরাবাদ দলের সঙ্গে রাজকোটে থাকাকালীন তিলক তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হন। পরে তাঁর ‘টেস্টিকুলার টরশন’ ধরা পড়ে এবং সফল অস্ত্রোপচার করা হয়।

তবে তিলকের না থাকার সমস্যা শুধু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ভারতের টপ থ্রিতে একজন বাঁহাতি ব্যাটারের অনুপস্থিতি নয়। তিলকের সেরে উঠতে দেরি হলে, মেগা টুর্নামেন্ট টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য শেষ মুহূর্তে দল বদল করতে হতে পারে টিম ইন্ডিয়াকে।

তিলক ভার্মার বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পছন্দ হবেন এমন একজন প্রস্তুত টপ বা মিডল অর্ডার ব্যাটার, যিনি চাপ সামলাতে পারেন এবং দলের বর্তমান ব্যাটিং পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে না।

এই দিক থেকে শ্রেয়স আইয়ারই সবচেয়ে উপযুক্ত নাম। তিলকের আসল গুরুত্ব ৭ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এমন এক পর্যায়ে, যেখানে বোলাররা নানা ম্যাচ-আপ ও বাউন্ডারি রাইডার ব্যবহার করে।

এই সময় ইনিংস সচল রাখা যে কোনও দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁর বিকল্পকেও সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছন্দ হতে হবে। স্বভাবতই শ্রেয়স আইয়ার তিন বা চার নম্বর ব্যাটার হিসেবে পরিচিত।

স্পিন-নির্ভর ওভার সামলানো, ফিল্ড সেটিং বুঝে নিয়ে ইনিংস তৈরি করা এবং প্রয়োজনে গিয়ার বদল এই সবকিছুতেই তিনি অত্যন্ত দক্ষ। এই ধরনের খেলার মধ্য দিয়েই তাঁর কেরিয়ার গড়ে উঠেছে।

যদিও তিনি তিলকের মতো বাঁহাতি নন, তবু তিনি টপ ফোরে এমন একজন ব্যাটার, যিনি মিডল ওভারে রানের গতি কখনও যেতে দেন না। যদি শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপের দলে বদল করতে হয়, তাহলে ভারত এমন একজন ক্রিকেটারকেই বেছে নেবে যিনি আত্মবিশ্বাস নিয়ে দলে ঢুকতে পারেন।

সেই মানদণ্ডে শ্রেয়স আইয়ার পুরোপুরি মানানসই। সম্প্রতি বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের হয়ে ৫৩ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নিজের ছন্দে ফেরার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০২৩ সালে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে শ্রেয়সের। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্স থেকে ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার।

এর ফলে তাঁর প্রাপ্যতা নিয়ে আর কোনও ধোঁয়াশা থাকছে না এবং নির্বাচকদের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরোপুরি ক্রিকেটীয় দিকটাই মুখ্য হয়ে উঠছে।