অনেকেরই দিন শুরু হয় কফিতে চুমুক দিয়ে। দিনের শুরুতে এনার্জি বাড়াতে এবং ঘুমঘুম ভাব কাটাতে যার জুড়ি মেলা ভার। তবে এই ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যতটা উপকারী মনে হয়, কিছু ক্ষেত্রে ততটাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে বা পর্যাপ্ত জল না খেয়ে সকালে কফি খেলে তার প্রভাব সব সময় নিরীহ নাও হতে পারে।

চিকিৎসক রোহন গোয়াল বলেছেন, “সকালের কফি সাধারণত ক্ষতিকর বলে মনে করা হয় না। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট মানুষের ক্ষেত্রে এটি জয়েন্টের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।”

ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে এবং সাময়িকভাবে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়ায়। ফলে শরীর চাঙ্গা লাগে ঠিকই কিন্তু এর প্রভাব শুধু ঘুম কাটানোয় সীমাবদ্ধ থাকে না। ডা. গোয়ালের মতে, যাঁরা আগে থেকেই প্রদাহ, জলশূন্যতা, অনিদ্রা বা প্রি-আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সকালে কফি খাওয়ার অভ্যাস জয়েন্টে শক্তভাব ও ব্যথা বাড়াতে পারে। বিশেষত হাত, হাঁটু ও গোড়ালির ছোট জয়েন্টগুলোতে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ডিহাইড্রেশন। রাতে দীর্ঘ সময় জল না খাওয়ার ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় জল না খেয়ে সরাসরি কফি পান করলে জয়েন্টের মধ্যে থাকা তরল ‘কুশনিং’ কমে যেতে পারে, যার ফলে ব্যথা আরও প্রকট হতে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠেই ‘বেড টি’ বা ‘বেড কফি’ খাওয়ার বদলে আগে এক গ্লাস জল পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক।

অতিরিক্ত কফি সেবন ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও জানান ডা. গোয়াল। দীর্ঘমেয়াদে এটি হাড়ের ঘনত্ব কমাতে পারে। বিশেষত ৩৫-৪০ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তি, মেনোপজের কাছাকাছি থাকা মহিলাদের ক্ষেত্রে বা যাঁদের ভিটামিন ডি-র ঘাটতি রয়েছে।

কোন লক্ষণগুলোতে সতর্ক হবেন?
মাঝেমধ্যে হালকা ব্যথা স্বাভাবিক হলেও কিছু লক্ষণ উপেক্ষা করা উচিত নয়। 

সকালে ২০–৩০ মিনিটের বেশি সময় জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকা
কোনও জয়েন্টে ফোলা বা লালচে ভাব
নড়াচড়ার সময় ক্লিক বা ঘর্ষণের শব্দ
সিঁড়ি ভাঙা বা বসা থেকে উঠতে গিয়ে ব্যথা
হাতের গ্রিপ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা বোতল খুলতে অসুবিধা
ঘুম থেকে উঠেই গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ব্যথা
দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর হাঁটুতে অস্বস্তি
ঘুমের পর বারবার পিঠ শক্ত হয়ে যাওয়া

চিকিৎসকদের মতে, কফি সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে খালি পেটে নয়, পর্যাপ্ত জলপান ও সুষম খাবারের সঙ্গে পরিমিত মাত্রায় কফি গ্রহণ করাই বাঞ্ছনীয়। সচেতন অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে জয়েন্ট ও হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।