কালোজিরের মতো উপকারী উপাদান খুব কমই রয়েছে। বহু যুগ ধরে এটি নানা রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সত্যিই কি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি কোনও ‘ম্যাজিক’ উপাদান? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে মুখ খুলেছেন এইমস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি।
একটি ভিডিওয় ডা. শেঠি কালোজিরে নিয়ে প্রচলিত নানা দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। কালোজিরেকে অনেক সময় দ্রুত ওজন কমানোর উপায় হিসাবে প্রচার করা হয়। তাঁর মতে, ক্যালোরি ঘাটতি বা নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প হতে পারে না কালোজিরে। অর্থাৎ এটি কোনও ওজন কমানোর অলৌকিক উপাদান নয়।
ডা. শেঠির কথায়, কালোজিরের বেশ কিছু প্রমাণিত স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে।
রক্তচাপ কমাতে সহায়ক
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর
ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
প্রদাহ ও জয়েন্টের ব্যথা কমাতে উপকারী
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগীদের উপর হওয়া কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রদাহ কমাতে কালোজিরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এছাড়া হাঁপানি ও মৌসুমি অ্যালার্জির ক্ষেত্রেও এটি উপকারী হতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের কোষকে সুরক্ষিত রাখতেও সাহায্য করে।
অতিরিক্ত সেবনে ঝুঁকি
কালোজিরের অনেক উপকারিতা থাকলেও ডা. শেঠি অতিরিক্ত সেবন নিয়ে সতর্ক করেছেন। খুব বেশি মাত্রায় কালোজিরে গ্রহণ করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
দৈনন্দিন রান্নায় কালোজিরে ব্যবহার করা যায়। তবে পরিমিত মাত্রায় খাওয়াই শ্রেয়। ডা. শেঠির পরামর্শ, প্রতিদিন আধ চা-চামচ থেকে এক চা-চামচ পর্যন্ত কালোজিরে গ্রহণ যথেষ্ট।
কালোজিরে ওজন কমানোর জাদুকাঠি না হলেও বিপাকক্রিয়া ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী হতে পারে। তবে যে কোনও উপাদানের মতোই পরিমিতি ও সচেতনতা জরুরি।
কালোজিরেকে ঘিরে যে ‘মিরাকল’ তকমা দেওয়া হয়, তা পুরোপুরি সঠিক নয়। ওজন কমানোর শর্টকাট হিসেবে এটি কাজ করে, এমন প্রত্যাশা অবাস্তব। স্থায়ী ও স্বাস্থ্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক বিষয়গুলির কোনও বিকল্প নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পরিমিতি। অতিরিক্ত গ্রহণ যে কোনও উপকারী উপাদানকেও ক্ষতিকর করে তুলতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে, সীমিত মাত্রায় এবং সুষম খাদ্যের অংশ হিসাবে কালোজিরে গ্রহণই বুদ্ধিমানের কাজ। স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে চটজলদি সমাধানের চেয়ে ধারাবাহিক ও সচেতন অভ্যাসই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়।
