অস্টিওপোরোসিসের এখন অনেকে ভোগেন। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এই রোগ শনাক্ত হতে এখনও অনেকটা সময় লেগে যায়। যাঁদের এই রোগের ঝুঁকি থাকে, তাঁরা অনেকেই জীবনে একবারও হারের পরীক্ষা করান না।

হাড় ক্ষয় সাধারণত শুরুতে কোন লক্ষণ দেখায় না। ফলে অনেকে এই রোগ সম্পর্কে প্রথমবার জানতে পারেন তখন, যখন হঠাৎ কোনও হাড় ভেঙে যায়। বিশেষ করে মেনোপজের পর মহিলাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও গুরুতর। হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যেই তাঁদের হাড়ের ঘনত্ব প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অথচ দুঃখের বিষয়, বোন মিনারেল ডেনসিটি পরীক্ষার মাধ্যমে অস্টিওপোরোসিস আগেভাগেই ধরা সম্ভব এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা ও সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে একে অনেকাংশে প্রতিরোধও করা যায়।

করোনা রেমেডিজ লিমিটেডের অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মেডিক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান ডা. অমিত সোনি এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। অস্টিওপোরোসিসকে প্রায়ই ‘নীরব রোগ’ বলা হয়, কারণ হাড়ের ঘনত্ব কমলেও শুরুতে তেমন কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। অনেক সময়ই একে বার্ধক্যজনিত স্বাভাবিক সমস্যা বা আর্থ্রাইটিস ভেবে ভুল করা হয়। বিশেষ করে ৪৫ বছরের বেশি বয়সি মহিলাদের ক্ষেত্রে।

দেশে প্রায় ছ’কোটি ১০ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। ৬০ বছরের বেশি বয়সি প্রায় ৪৫ লক্ষ মহিলা মেরুদণ্ডের ভাঙনে ভুগছেন, প্রতি বছর প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের হিপ ফ্র্যাকচার হয়। উপরন্তু, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভোগেন, যা হাড় ভাঙার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

ভিটামিন ডি-এর অভাব ও পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না পাওয়াই এই রোগের প্রধান কারণ। এই দুইয়ের ঘাটতি একসঙ্গে হাড়কে দুর্বল করে তোলে, ফলে সামান্য চাপেই ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

হাড় ভালো রাখার প্রথম শর্তই হল সঠিক পুষ্টি। দুধ, দই, রাগি, তিল এবং সবুজ শাকসবজি শক্ত হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অন্য দিকে সূর্যালোক থেকে পাওয়া ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।

কিন্তু শহুরে জীবনে ঘরের ভিতরে দীর্ঘ সময় কাটানোর কারণে ভারতে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত অল্প সময়ের জন্য হলেও প্রাকৃতিক রোদে থাকা মধ্যবয়সি মানুষদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা উন্নত করতে বিশেষভাবে সহায়ক, বিশেষ করে শহুরে এলাকায়।

এর পাশাপাশি হাঁটা, যোগব্যায়াম ও রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংয়ের মতো ওজন বহনকারী ব্যায়াম হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং অকাল ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাবে, ভারতে ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রতি তিনজন মহিলার মধ্যে একজন এবং প্রতি পাঁচজন পুরুষের মধ্যে একজন অস্টিওপোরোসিসজনিত সমস্যার শিকার হবেন।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ একটাই। সচেতনতা। আগেভাগে রোগ নির্ণয় এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন। হাড়ের স্বাস্থ্যকে ভবিষ্যতের বিষয় না ভেবে আজ থেকেই গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। যে সমাজে কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার পরীক্ষার উপর এত জোর দেওয়া হয়, সেখানে বোন ডেনসিটি পরীক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।