বাজেট ২০২৬-এ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। এবার একনজরে দেখে নিন সেগুলির খতিয়ান।
2
11
সরকারের মূল জোর রয়েছে মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক বাজারকে শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর।
3
11
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি আর্থিক বছরের তুলনায় আগামী অর্থবর্ষে সরকারি ক্যাপেক্স উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। ২০২৭ অর্থবর্ষে সরকারের মূলধনী ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা, যা ২০২৬ অর্থবর্ষে ছিল ১১.২ লক্ষ কোটি টাকা।
4
11
এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি পরিকাঠামো, পরিবহণ, শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গতি আনবে বলে সরকারের আশা। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ক্যাপেক্স অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক হবে।
5
11
পরিবহণ ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা এসেছে বাজেটে। পরিবেশবান্ধব ও দ্রুত যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে সাতটি নতুন হাই-স্পিড রেল করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
6
11
প্রস্তাবিত করিডরগুলি হল—মুম্বই থেকে পুনে, পুনে থেকে হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ থেকে চেন্নাই, চেন্নাই থেকে বেঙ্গালুরু, দিল্লি থেকে বারাণসী এবং বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি। এই রেল করিডরগুলি দেশের বড় শহরগুলিকে দ্রুত সংযুক্ত করবে এবং সড়ক ও বিমান পরিবহণের উপর চাপ কমাবে।
7
11
বাজেটে কর্পোরেট বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, একটি মার্কেট-মেকিং ফ্রেমওয়ার্ক চালু করা হবে, যেখানে কর্পোরেট বন্ড সূচকের উপর ভিত্তি করে ফান্ড ও ডেরিভেটিভ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
8
11
‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্য পূরণে ব্যাংকিং ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে একটি উচ্চস্তরের কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই কমিটি দেশের সম্পূর্ণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার পর্যালোচনা করবে এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সমর্থন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ দেবে।
9
11
এনআরআই বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে বাজেটে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এনআরআইদের বিনিয়োগ সীমা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে এবং মোট বিনিয়োগ সীমা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৪ শতাংশ করা হয়েছে।
10
11
একই সঙ্গে সরকার আর্থিক শৃঙ্খলার উপর নজর রেখেছে। ২০২৭-এর জন্য রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে জিডিপির ৪.৩ শতাংশ, যেখানে ২০২৬-এর সংশোধিত হিসাব ৪.৪ শতাংশ। তবে বাজারের জন্য কিছুটা নেতিবাচক খবর হল অপশন লেনদেনে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স ০.১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব।
11
11
সার্বিকভাবে, বাজেট ২০২৬-এ বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে সরকার। তবে বাজেট নিয়ে হতাশার ছাপ সবার মধ্যে সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না।