বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মধ্যেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আগে যেখানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, অনুষ্ঠান বা ভিড়ের মধ্যে থাকতে ভাল লাগত, বয়স বাড়লে সেখানে অনেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। কম কথা বলা, অল্প মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করা এবং একা সময় কাটানো বেশি পছন্দ হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ইন্ট্রোভার্ট হয়ে যাওয়া কি স্বাভাবিক? আসুন জেনে নেওয়া যাক-
মনোবিদদের মতে, বয়সের সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্ক ও মানসিক গঠনে পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে যে অংশটি সামাজিক আচরণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত, তার কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে বদলায়। এর ফলেই অনেক মানুষ অপ্রয়োজনীয় সামাজিক যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। তারা বুঝে যান, সব মানুষের সঙ্গে মিশে এনার্জি নষ্ট করার চেয়ে নিজের মতো শান্তভাবে থাকা বেশি শ্রেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের অভিজ্ঞতাও এর একটি বড় কারণ। বয়স বাড়লে মানুষ জীবনের নানা ওঠানামা দেখে। তখন সে বেছে নিতে শেখে যে কারা তার জীবনে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনেকের ক্ষেত্রে বন্ধুর সংখ্যা কমে যায়, কিন্তু যাঁরা থাকেন, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য হয়।
ইন্ট্রোভার্ট হওয়া মানেই যে একা হয়ে যাওয়া বা সমাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া, তা নয়। অনেক সময় এই পরিবর্তন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালও হতে পারে। নিজের জন্য সময় পাওয়া, অযথা চাপ কমানো এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প কয়েকজন কাছের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে এবং মন ভাল থাকলে এই অন্তর্মুখী স্বভাব একেবারেই ক্ষতিকর নয়।
কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন মানুষ একাকিত্বে ভুগতে শুরু করে। যদি কেউ কথা বলার মানুষ না পায়, সব সময় মন খারাপ থাকে বা সমাজ থেকে নিজেকে পুরোপুরি আলাদা করে নেয়, তাহলে সেটি উদ্বেগের বিষয়। এমন ক্ষেত্রে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা বা প্রয়োজনে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের সঙ্গে ইন্ট্রোভার্ট হয়ে যাওয়া একটি স্বাভাবিক মানসিক পরিবর্তন। এটি ভাল না খারাপ তা নির্ভর করে মানুষের মানসিক অবস্থার ওপর। যদি এতে শান্তি ও স্থিরতা আসে, তবে তা ইতিবাচক। কিন্তু যদি একাকিত্ব কষ্টের কারণ হয়, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
