আজকাল ওয়েব ডেস্ক: কলকাতা থেকে শুরু করে দেশের অন্য শহর, শহরতলিতে বহু মানুষের ভাড়া বাড়িই আস্থানা। কারওর কর্মক্ষেত্রের জন্য, কারওর বা অন্য কারণে, ভাড়া বাড়িতে থাকাই একমাত্র বিকল্প। আর যার জন্য বাড়ির মালিকের সঙ্গে করতে হয় চুক্তি। সাধারণত ভারতে ১১ মাসে ভাড়া বাড়ির চুক্তি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বছরে ১২ মাস হওয়া সত্ত্বেও কেন এই নিয়ম করা হয় জানেন?
আসলে ভাড়ার চুক্তি হল বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটের মধ্যে হওয়া আইনি চুক্তিপত্র। যেখানে দু’পক্ষের কর্তব্য এবং অধিকারের সব বিষয়ে বিশদে বলা থাকে। সেই চুক্তি যতই পাকাপোক্ত হোক না কেন, তা ১১ মাসেই শেষ হয়ে যায়। ভাড়াটে যতদিন থাকবেন তাঁকে সেই চুক্তি পুনর্নবীকরণ করে যেতে হয়। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ ১১ মাসই থাকে। যার নেপথ্যে রয়েছে এদেশের আইন। ১৯৮০ সালের বাড়ি ভাড়ার আইনের ১৭(ডি) ধারা অনুযায়ী, বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কোনও রকমের রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই এক বছরের কম সময়ের জন্য চুক্তি করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাঁকে সরকারের কাছে কোনও নথি জমা করতে হয় না। দিতে হয় না রেজিস্ট্রেশন ফি। আর সেই কারণেই অধিকাংশ বাড়ির মালিক ১১ মাসের জন্য বাড়ি ভাড়ার চুক্তি করে থাকেন। রেজিস্ট্রেশন না থাকলে বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত সরকারি রাজস্ব (স্ট্যাম্প ডিউটি) দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটে দু’পক্ষই একটা বড় অঙ্কের টাকা খরচের হাত থেকে বেঁচে যান। যা এই ১১ মাসের চুক্তির অন্যতম কারণ।
সংশ্লিষ্ট আইনের প্যাঁচ এতটাই জটিল যে প্রয়োজনে বাড়ির মালিক বাড়ি ফাঁকা করাতে চাইলেও সেই দাবি আইনি পথে সম্পূর্ণ হতে দীর্ঘদিন সময় লেগে যায়। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সমস্যা হল ভাড়াটের সঙ্গে বিরোধ। যা অনেক সময়ই গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এদেশের আইনে ভাড়াটিয়ারা রক্ষাকবচ পেয়ে থাকেন। ফলে তাঁকে বাড়ি থেকে তোলা খুব কঠিন হয়। শুধু তাই নয়, ভাড়াটিয়ারা অনেক সময়ই সম্পত্তির ভাগ পর্যন্ত দাবি করে বসেন। সেই কারণেও অধিকাংশ বাড়ির মালিক ১১ মাসের জন্য বাড়ি ভাড়ার চুক্তি করেন। অর্থাৎ ১১ মাসের চুক্তিতে দু’পক্ষই যেহেতু সুবিধা পান, সেজন্য দীর্ঘদিন ধরে এদেশে এই নিয়মই চলে আসছে।
















