জ্যোতিষশাস্ত্রে সংসারের সুখ, সমৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নতির সঙ্গে মানুষের আচরণ ও মানসিকতার গভীর যোগ আছে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে দাম্পত্য জীবনে স্বামী–স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং তা সরাসরি গ্রহের অবস্থান ও কুণ্ডলির ঘরগুলোর উপর প্রভাব ফেলে, এমনটাই বিশ্বাস করেন জ্যোতিষীরা।

জ্যোতিষ অরুণ কুমার ব্যাসের মতে, স্ত্রীর কুণ্ডলির সপ্তম ঘর দাম্পত্য, সহযোগিতা ও সম্মানের প্রতীক। যখন স্বামী ছোট ছোট কাজে স্ত্রীর পাশে দাঁড়ান, যেমন নিজের হাতে চা বা কফি বানিয়ে দেওয়া, তখন তা কেবল দৈনন্দিন সৌজন্যের প্রকাশ নয়। বরং তাঁর অহংকার ত্যাগ করার একটি প্রতীকী রূপ। অহংকার কমলেই সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য আসে, আর সেই মুহূর্তেই স্ত্রীর কুণ্ডলির সপ্তম ঘর সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে বিশ্বাস করা হয়।

স্বামী যখন স্ত্রীর যত্ন নেন, তাঁকে সমান মর্যাদা দেন এবং সম্পর্কের মধ্যে সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রাখেন, তখন স্ত্রীর মনে সন্তুষ্টি ও মানসিক শান্তি আসে। জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়, সন্তুষ্ট নারীই দেবী লক্ষ্মীর শক্তির ধারক। অর্থাৎ স্ত্রী যখন আনন্দিত ও মানসিকভাবে পরিপূর্ণ থাকেন, তখন দেবী লক্ষ্মীর কৃপা স্বামীর জীবনে প্রবাহিত হয়।

এই কৃপা ধনসম্পদ, সামাজিক সম্মান এবং জীবনের স্থায়িত্বের রূপ নিয়ে আসে। তাই জ্যোতিষের দৃষ্টিতে, স্ত্রীর জন্য ছোট্ট একটি চা বা কফি বানিয়ে দেওয়া আসলে ভাগ্যের দরজায় কড়া নাড়ার মতোই। সংসারে সমতা, ভালবাসা ও যত্নই শেষ পর্যন্ত মানুষকে প্রকৃত ঐশ্বর্য এবং সম্মানের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, এটাই এই বিশ্বাসের মূল কথা।

সংসারের প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু কঠোর পরিশ্রম, চাকরি বা ব্যবসার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে না, বরং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভারসাম্যও এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। স্বামী যখন নিজের অহংকার ত্যাগ করে স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল হন, তাঁকে সম্মান দেন এবং দৈনন্দিন কাজে সমান অংশীদার হন, তখন সংসারে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ শুরু হয়। এই আচরণ স্ত্রীর মনে আনন্দ ও নিরাপত্তা আনে, আর সেই আনন্দ থেকেই সক্রিয় হয় শুভ শক্তি। জ্যোতিষ মতে, এতে স্ত্রীর কুণ্ডলীর সপ্তম ঘর শক্তিশালী হয় এবং দেবী লক্ষ্মীর কৃপা স্বামীর জীবনে প্রবেশ করে। ফলে সংসারে সুখ, সম্মান ও আর্থিক সমৃদ্ধি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।