আজকাল স্বাস্থ্যকর পানীয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। চায়ে আদা দেওয়া বহুদিনের পরিচিত অভ্যাস হলেও এখন অনেকেই কফিতেও আদা মিশিয়ে পান করছেন। কেউ কেউ মনে করেন এতে মেটাবলিজম বাড়ে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। আবার কারও মতে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কফির সঙ্গে আদা মিশিয়ে খাওয়া সত্যিই কি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নাকি এতে ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে? তাই এর ভাল ও খারাপ, দু’দিকই জানা জরুরি।
কফি ও আদা, দু’টিই আলাদা আলাদা ভাবে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, ক্লান্তি কমায় এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। অন্য দিকে আদায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ, যা হজমে সাহায্য করে, সর্দি-কাশি কমায় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এই দুই উপাদান একসঙ্গে মিশলে শরীরে উষ্ণতা তৈরি হয় এবং মেটাবলিজম সক্রিয় হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি গ্যাস, পেট ফোলা বা বমিভাবের মতো সমস্যাতেও কিছুটা স্বস্তি দেয়।
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন এমন মানুষের মধ্যে আদা-দেওয়া কফি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আদা শরীরের ফ্যাট বার্ন করার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সাহায্য করতে পারে, আর কফি সাময়িকভাবে খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সকালে খালি পেটে অল্প পরিমাণ আদা মিশিয়ে কফি খেলে এনার্জি লেভেল বাড়ে এবং সারাদিন নিজেকে চনমনে লাগতে পারে। এছাড়াও এই পানীয় শরীরের প্রদাহ কমাতে ও পেশির জড়তা দূর করতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের জন্য।
তবে আদা মেশানো কফি সকলের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। যাঁদের অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা বা পেটের আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পানীয় উল্টো সমস্যা বাড়াতে পারে। কফি ও আদা, দু’টিই গরম প্রকৃতির হওয়ায় অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে পেটে জ্বালা, অস্বস্তি কিংবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা ও উদ্বেগও বাড়তে পারে।
এই পানীয় খাওয়ার সময় পরিমাণ ও সময়ের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। দিনে এক কাপের বেশি আদা-দেওয়া কফি না খাওয়াই ভাল। আদার পরিমাণও সীমিত রাখা উচিত। বেশি আদা দিলে শুধু স্বাদ নষ্টই হয় না, স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। খালি পেটে খাওয়ার আগে নিজের হজম ক্ষমতা বুঝে নেওয়া জরুরি। আগে থেকেই কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে নিয়মিত এই অভ্যাস গড়ে তোলার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
