ফিটনেসের দুনিয়ায় 'মিনিমাল মিল রুটিন' এখন নতুন ট্রেন্ড। বিরাট কোহলি, আদিত্য রায় কাপুর সহ বহু সেলিব্রিটি প্রতিদিন প্রায় একই ধরনের খাবার খান। কেউ ব্রাউন রাইস-চিকেন-সবজি, কেউ কিনোয়া-স্যালাড, রোজই প্রায় এই রুটিন মেনে চলেন অনেকে। কিন্তু কেন তারকারা এই বিশেষ অভ্যাস অনুসরণ করেন? সত্যি কি এই খাদ্যাভাস নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসের যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনি কিছু ঝুঁকিও কম নয়। তাই অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং নিজের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

কেন সেলিব্রিটিরা প্রতিদিন একই খাবারের দিকে ঝুঁকছেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলিব্রিটিদের প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার পেছনে তিনটি বিশেষ কারণ রয়েছে। যেমন-

১. শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়ঃ প্রতিদিন কী খাবেন, কত ক্যালোরি হবে-এই সিদ্ধান্তের ঝামেলা কমে যায়। এতে 'ডিসিশন ফ্যাটিগ” কমে এবং কঠোর ফিটনেস রুটিন বজায় রাখা সহজ হয়।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঃ একই ধরনের খাবার মানে নির্দিষ্ট ক্যালোরির পুষ্টি। ফলে শরীরের বিপাক ঠিক থাকে, আকস্মিক স্ন্যাকিং বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।

৩. মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমেঃ নিয়মিত, নিয়ন্ত্রিত খাবার রক্তের গ্লুকোজ ঠিক রাখে। সেলিব্রিটি অ্যাথলিটদের ক্ষেত্রে এটি খুব জরুরি।

কিন্তু এর ঝুঁকি কী? বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, যদিও অভ্যাসটি তারকাদের জন্য কার্যকর, সর্বসাধারণের জন্য নাও হতে পারে। এর কয়েকটি স্পষ্ট ঝুঁকি আছে। যেমন-

পুষ্টির বৈচিত্র্য কমে যায়ঃ প্রতিদিন একই খাবারে ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টসের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শরীর নিয়মিত বিভিন্ন রকম খাবার চায়।

গাট হেলথে প্রভাব পড়েঃ বিজ্ঞান বলছে, বৈচিত্র্যময় খাবার ভাল ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ায়। একই খাবারে সীমাবদ্ধতা গাট মাইক্রোবায়োমে প্রভাব ফেলে, ফলে হজম ও মেটাবলিজম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মানসিক একঘেয়েমি ও খাবারে বিরক্তিঃ দীর্ঘদিন ধরে একই খাবার খেলে ‘ফুড বোরডম’ তৈরি হয়, যা পরে অতিভোজন বা জাঙ্ক-ফুডের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে পারে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, সেলিব্রিটি বা অ্যাথলিটদের জন্য এই রুটিন কার্যকর কারণ তাদের খাবার বিশেষজ্ঞরা তৈরি করেন, শরীরের প্রতিটি পরিবর্তন মনিটর করা হয়, ভিটামিন-মিনারেল ঘাটতি সাপ্লিমেন্টে পূরণ হয়, ফিটনেস লক্ষ্য অনেক বেশি নির্দিষ্ট। সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রতিদিন একই খাবার খাওয়া দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়। এতে পুষ্টির অভাব দেখা যেতে পারে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্য নষ্ট হয়।

তাহলে সমাধান কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, একই খাবারের বদলে ৪–৫ ধরনের পুষ্টিকর খাবারের রোটেশন মেনু তৈরি করুন। প্লেটে শস্য, প্রোটিন, সবজি, ভাল ফ্যাট-এসবের বৈচিত্র্য রাখুন। তারকাদের অভ্যাস নকল না করে নিজের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী খাবার বেছে নিন।