দুর্গাপুজোর শুরুতেই হয় বোধন। অন্য দেবদেবীর পুজোর ক্ষেত্রে বোধনের ততটা গুরুত্ব না থাকলেও দুর্গাপুজোর বোধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন জানেন? কেনই বা পুজো শুরু আগে এই নিয়ম পালন করা হয়?

‘বোধন’ কথার মানে হচ্ছে জাগরণ বা জাগ্রহ করা। অর্থাৎ দেবীর নিদ্রাভঙ্গের উদ্যোগ। আসলে হিন্দু ধর্মে বছরকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। একটি দক্ষিণায়ন এবং অপরটি উত্তরায়ন। দক্ষিণায়নে দেবতাদের রাত্রি। আর উত্তরায়ন মানে দিন। শাস্ত্র মতে, শরৎকাল হল যে কোনও দেবদেবীর নিদ্রাকাল। পৃথিবীর এক বছরের সমান স্বর্গের একদিন। তাই সূর্যের উত্তরায়নকে বলা হয় দেবতাদের দিন এবং দক্ষিণায়নকে বলা হয় দেবতাদের রাত্রি।

আরও পড়ুনঃ এই ৫ রাশিই দুর্গার সবচেয়ে প্রিয়, সারা বছর পান দেবীর আশীর্বাদ, সেপ্টেম্বরে লটারি কাটলেই কোটিপতি হবেন কারা?

বাংলায় দেবীর বোধনের সঙ্গে আবার রামায়ণের যোগ রয়েছে। বলা হয়, রাবণের বিনাশের জন্য রামচন্দ্র শরৎকালে দেবীর আরাধনা করেছিলেন। যা নিয়ম অনুযায়ী ‘অকাল’। যে কারণে এই পুজোকে ‘অকালবোধন’ বলা হয়। শারদীয় পুজোয় ষষ্ঠীতে বোধন-মন্ত্রে এই বিষয়ে উল্লেখও রয়েছে। রামচন্দ্র অকালে দুর্গাকে পুজো করেছিলেন। তাই পুজো করার আগেই বোধন করে দেবীর নিদ্রা ভঙ্গ করেছিলেন বলে কথিত রয়েছে। 

আজকাল যতই মহালয়া থেকে পুজোর উদ্বোধন করা হোক না কেন দুর্গাপুজো শুরু হয় ষষ্ঠী থেকে। দেবীর বোধন থেকে শুরু হয় মায়ের আরাধনা। ষষ্ঠী তিথিতে দুর্গার মুখের আবরণ উন্মোচন করা এই দিনের প্রধান কাজ হিসাবে গণ্য হয়। 

মর্ত্যে দুর্গার আবাহনের জন্য বোধনের রীতি প্রচলিত রয়েছে। ষষ্ঠীর সকালে কল্পারম্ভ দিয়ে শুরু হয় দুর্গার বোধন। তারপর দশভূজার সামনে গোটা পূজা পর্বে কোনও বিঘ্ন না ঘটার প্রার্থনা করা হয়।  ঘট ও জলেপূর্ণ একটি তামার পাত্র মণ্ডপের কোণে স্থাপন করে সেখানে দুর্গা ও চণ্ডীর পুজো করা হয়। তারপরই হয় দুর্গার বোধন। এছাড়াও বোধনের পরে থাকে অধিবাস, আমন্ত্রণের পর্ব। অশুভ শক্তি দূরের জন্য ঘটের চারপাশে তীরকাঠিতে সুতো জড়িয়ে আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া শুর হয়। এভাবেই শেষ হয় ষষ্ঠীর আচার।মনে করা হয়, বোধনের মাধ্যমে প্রতিমার মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত করা হয়। এই নিয়মের পরেই সকল সকল দেব-দেবী এবং তার সঙ্গে মহিষাসুরেরও পুজো করা হয়। আগামীকাল ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পুজো। দেবীর বোধনের পর একে একে চলবে পুজোর সমস্ত নিয়ম। দশমীতে বিসর্জন হবে মায়ের।