আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফলের দোকানে সাধারণত বড় পেয়ারাগুলিই প্রথমে চোখে পড়ে। মসৃণ ত্বক আর ওজনে ভারী হওয়ায় সেগুলিকে ভাল মানের মনে হয়। ছোট পেয়ারাগুলি পাশেই থাকে, সেগুলি তুলনামূলকভাবে শক্ত। ফলের ব্যাপারে ভাল ধারণা না থাকলে সেগুলির দিকে সাধারণত চোখ যায় না। বেশিরভাগ মানুষ সহজাতভাবেই বড় আকারের ফল বেছে নেন। কিন্তু পেয়ারার ক্ষেত্রে এই ধারণা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। একটি বড় এবং একটি ছোট পেয়ারার মধ্যে পার্থক্যটা শুধু দেখনদারিতেই নয়। এই পার্থক্য স্বাদে, হজমে এবং ফলটি খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শরীরে কেমন অনুভূতি হয়, তাতেও ধরা পড়ে।
পেয়ারার আকার শুধু জাতের ওপরই নির্ভর করে না, ফলটি কীভাবে বেড়ে উঠেছে, তাও বোঝা যায়। বড় পেয়ারা প্রায়শই ফলন এবং বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য চাষ করা হয়। এগুলি বেশি জল শোষণ করে, দ্রুত বাড়ে এবং তাড়াতাড়ি বাজারে আসে। ছোট পেয়ারাগুলো সাধারণত ধীর গতিতে বিকশিত হয়, যার ফলে শাঁসালো হয় এবং জলের পরিমাণ কম থাকে। এই ধীর বৃদ্ধি স্বাদ ও আঁশকে ঘনীভূত করে। যা ফলের স্বাদ এবং শরীর কীভাবে তা হজম করে তার ওপর প্রভাব ফেলে।
ছোট পেয়ারাগুলোর স্বাদ সাধারণত তীব্র এবং সুগন্ধি হয়। যার জোরালো স্বাদ মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনুভূত হয়। অন্যদিকে, বড় পেয়ারাগুলোর স্বাদ তুলনামূলকভাবে হালকা হয়। সেগুলো মিষ্টি হলেও, স্বাদ কিছুটা ফিকে মনে হয়।
ছোট পেয়ারা অল্প পরিমাণে খেলেও প্রায়শই বেশি পেট ভরা মনে হয়। এগুলির শাঁস ঘন হয় এবং ফাইবারও বেশি থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। বড় পেয়ারায় জলের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই প্রথমে সেগুলি হালকা মনে হলেও, দ্রুতই আবার খিদে পেয়ে যায়। অনেকে খুব বড় পেয়ারা খাওয়ার পর হালকা পেট ফাঁপার সমস্যাও অনুভব করেন। বিশেষ করে শেষ বেলায়, যখন হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই ধীর হয়ে যায়।
বড় পেয়ারাতে সাধারণত বেশি বীজ থাকে এবং শাঁস নরম হয়। যাদের হজমশক্তি কম, তাঁরা এই ধরণের পেয়ারা খেলে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। ছোট পেয়ারাগুলো শক্ত হয় এবং প্রায়শই ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া সহজ হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে হজমে সাহায্য করে।
ভারতের আবহাওয়ায় ফল সংরক্ষণের সময়কাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছোট পেয়ারা সাধারণত বেশি দিন তাজা থাকে, সহজে থেঁতলে যায় না এবং রাতারাতি নরম হয়ে না গিয়ে নিজেদের গঠন ধরে রাখে। বড় পেয়ারা প্রথম দিনে দেখতে আকর্ষণীয় লাগলেও, সেগুলি দ্রুত পেকে যায় এবং নরম হয়ে পড়ে। প্রায়শই একদিনের মধ্যেই সেগুলিতে ছোপ দেখা যায়।
