আজকাল ওয়েব ডেস্ক: কখনও খেয়াল করেছেন দিনে কতবার হাই তুলছেন? না, শুধু আপনি নন, বেশিরভাগ মানুষই খেয়াল করেন না। আসলে হাই এমন এক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যার উপর আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই তো ইচ্ছা করলেই যে হাই উঠবে, এমনটা নয়। আবার ইচ্ছা না হলে সারাদিনে একবারও হাই তুলবেন না, তাও হয় না।

হাই ওঠার পিছনে আদৌ কোনও নির্দিষ্ট কারণ আছে কিনা, সেবিষয়ে যদিও গবেষকরা নিশ্চিত নন। তবে মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তি বা কোনও কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে গেলে যে হাই ওঠে, তা প্রায় সকলেরই জানা। শরীরে ক্লান্তি আসলে হাইয়ের মাধ্যমে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছায়। ফলে ক্লান্তি দূর হতে সময় লাগে না। দিনে বার কতক হাই তুললে কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু বারে বারে যদি হাই উঠতে থাকে, তাহলে চিন্তার বিষয় বৈকি! কারণ অতি সাধারণ এই হাইয়ের পিছনেও লুকিয়ে খাকতে পারে কোনও জটিল রোগ।

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারা দিন হাই উঠতে থাকে। অর্থাৎ যে রাতে ঘুম ঠিক মতো হয় না তার পরদিন হাই ওঠা খুবই স্বাভাবিক। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে মেটাবলিসম সম্পর্কিত রোগের কারণেও অতিরিক্ত হাই ওঠে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলেও হাই উঠতে থাকে।

নারকোলেপসি একটি ঘুমের সমস্যা। এতে কোনও ব্যক্তি যে কোনও সময় যে কোনও জায়গায় হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। এই রোগে, রোগী দিনের বেলায় অনেক সময় ঘুমিয়ে থাকেন, যার কারণে বেশি হাই ওঠে। অন্যদিকে, অনিদ্রার সমস্যায় ভুগলে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। একবার ঘুম থেকে উঠলে ফের ঘুমাতেও কষ্ট হয়।

এছাড়াও বার বার হাই ওঠার পিছনে আর যে কারণ থাকতে পারে তা হল-নির্দিষ্ট কোনও ওষুধের প্রভাবেও অতিরিক্ত হাই উঠতে পারে। কাশির কমানোর বা স্নায়ুর কোনও রোগের ওষুধ খেলে অনেকেরই আচ্ছন্ন ভাব থাকে। আবার পার্কিনসন্স বা স্কেলেরোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অত্যধিক হাই উঠতে দেখা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, অত্যধিক মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের মধ্যে থাকলেও অতিরিক্ত হাই ওঠে। কোনও বিষয় নিয়ে মনের মধ্যে ভয়ের উদ্রেক হলেও হাই-এর সমস্যা হয়। আবার শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছলে বেশি হাই ওঠে। অক্সিজেনের অভাবে হার্টের রোগ দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে হঠাৎ করে হার্ট রেট বা রক্তচাপ বেড়ে গেলেও হাই উঠতে পারে।