আজকাল ওয়েবডেস্কঃ পোশাক শুধুই ফ্যাশনের অঙ্গ নয়, শরীর-স্বাস্থ্যের সঙ্গেও এর যোগ রয়েছে। আর ফ্যাশনের প্রাথমিক শর্তই হল পোশাক হতে হবে আরামদায়ক। সাঁতার, সাইকেল চালানো, শরীরচর্চার সময়ে টাইট বা আঁটোসাঁটো পোশাক পরতে হয় ঠিকই। কিন্তু অনেকে সবসময়েই টাইট পোশাক পরতে পছন্দ করে কিন্তু দীর্ঘক্ষণ খুব আঁটোসাঁটো জামাকাপড় পরলে যে শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। 
 
* খুব টাইট পোশাক পরলে ত্বকে ঘষা লেগে জ্বালা, লালচেভাব এবং এমনকী ফুসকুড়ি হতে পারে। তাই অর্ন্তবাস একেবারেই টাইট পরা ঠিক নয়।
* টাইট পোশাকের একটি সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হল স্নায়ুর সংকোচন। যার ফলে অসাড়তা, ঝিনঝিন, এমনকী ব্যথার অনুভূতিও হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্নায়ুর সংকোচনের প্রভাব আরও খারাপ হতে পারে, বিশেষ করে যদি সারাক্ষণই কেউ টাইট পোশাক পরেন। 
* আঁটোসাঁটো পোশাক পরলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তির সঙ্গে শরীরে অক্সিজেন পরিমাণ কমে যেতে পারে।
* অত্যন্ত আঁটোসাঁটো পোশাক, বিশেষ করে পা বা কোমরের চারপাশে টাইট হলে শরীরে রক্ত চলাচল বাধা পায়। ​​ফলে ভ্যারিকোজ শিরা বা কিছু ক্ষেত্রে রক্ত ​​জমাটের মতো আরও গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
* আঁটোসাঁটো পোশাক পেটের চাপ বাড়ায়, পাকস্থলীর অ্যাসিডকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে পেটের চারপাশে ক্রমাগত চাপ অ্যাসিড রিফ্লাক্স, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), এবং গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ জিইআরডি)-র মতো সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে টাইট পোশাক পরার অভ্যাস। 
* মহিলাদের যে সব আঁটোসাঁটো পোশাক শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখে, সেগুলি পায়ের ভাঁজে ছত্রাকের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে আঁটোসাঁটো অন্তর্বাস বা সিন্থেটিক কাপড়ের পোশাক পরলে শরীরে ঠিক মতো বায়ুচলাচল করে না।
* টাইট পোশাকের কারণে দীর্ঘস্থায়ী রক্ত ​​প্রবাহ বাধা পাওয়ায় ভ্যারিকোজ শিরা তৈরি হতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সীমাবদ্ধ রক্ত ​​সঞ্চালনের ফলে রক্ত ​​জমাট বাঁধতে পারে, যা শিরা থ্রম্বোসিসের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
* টাইট বেল্ট বা কোমরবন্ধ পিঠের নিচের অংশে অযথা চাপ তৈরি করে, যার ফলে পেশীতে ব্যথা হতে পারে। শরীরের ভঙ্গি বদলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। খারাপ ভঙ্গির ফলে দীর্ঘস্থায়ী ঘাড়, পিঠ এবং জয়েন্টে ব্যথার আশঙ্কা থাকে।