আজকাল ওয়েবডেস্ক: বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়েছেন। খাওয়ার টেবিলে যখন জমাটি আড্ডা চলছে, তখন এক বন্ধুর চোখ আটকে রয়েছে মেনু কার্ডের পাতায়। কী অর্ডার দেওয়া হবে, তা নিয়ে বাকিদের আলোচনা যখন প্রায় শেষ, তখনও তিনি খুঁটিয়ে পড়ে চলেছেন প্রতিটি পদের বিবরণ। এই দৃশ্য আমাদের অনেকের কাছেই বেশ পরিচিত। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, মানুষটি কেন এমন করছেন? কেবল অভ্যাসের বশে নাকি এর পিছনে রয়েছে তাঁর চরিত্রের গভীরতর কোনও দিক? মনোবিজ্ঞানীদের মতে, রেস্তোরাঁর মেনু পড়ার এই ধরন থেকেও এক জন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক কিছু আঁচ করা যায়।

মনোবিদদের মতে, যাঁরা মেনু কার্ডের প্রতিটি শব্দ খুঁটিয়ে পড়েন, তাঁরা সাধারণত ‘ম্যাক্সিমাইজার’ গোত্রের মানুষ হন। অর্থাৎ, তাঁরা যে কোনও পরিস্থিতিতেই সেরা বিকল্পটি বেছে নিতে চান। তাঁদের মনে অবচেতনে একটি ভয় কাজ করে- যদি ভুলবশত এমন কিছু অর্ডার দিয়ে ফেলেন, যার চেয়ে ভাল অন্য কোনও পদ তালিকায় ছিল! তবে পরে এই নিয়ে কষ্ট পাবেন। এই ‘ফিয়ার অব বেটার অপশন’ বা আরও ভাল কিছু হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই তাঁরা প্রতিটি বিকল্পকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। এঁরা জীবনে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেই সমস্ত বিকল্প খতিয়ে দেখে তবেই সেরাটিকে বেছে নিতে চান। এঁদের মূল উদ্দেশ্য, নিজের অর্থ, সময় এবং অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা।

দ্বিতীয়ত, এই স্বভাব অনেক সময়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিবেকবোধ এবং তাঁর গোছানো চরিত্রের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের মানুষেরা খুঁটিনাটি বিষয়ে অত্যন্ত মনোযোগী হন। মেনু পড়ার সময়ে তাঁরা কেবল পদের নাম দেখেন না, বরং তাতে কী কী উপকরণ রয়েছে, রান্নার পদ্ধতি কেমন, এমনকী পদের পরিমাণ বা ক্যালোরির কথাও ভাবেন। এঁরা সাধারণত জীবনে সব কাজ পরিকল্পনা মাফিক এবং গুছিয়ে করতে পছন্দ করেন। নিখুঁত ডিনারের পরিকল্পনাও তাঁদের এই বৃহত্তর স্বভাবেরই একটি অংশ।
আরও পড়ুন: বাবা ভাঙ্গা আর নস্ত্রাদামুস দু’জনেই সাবধান করেছিলেন! ২০২৫-এর ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী শুনে কাঁপছে গোটা বিশ্ব

কিছু ক্ষেত্রে, এই অভ্যাস আবার উদ্বেগেরও লক্ষণ হতে পারে। মনোবিজ্ঞান বলছে, ‘অ্যাংজাইটি’ বা উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা প্রায়শই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। তাঁদের মনে হতে থাকে, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো বাকিদের সামনে অপ্রস্তুত হতে হবে বা টাকাটাই নষ্ট হবে। এই উদ্বেগ কমাতেই তাঁরা বারবার মেনু পড়ে নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন। এটি তাঁদের কাছে এক ধরনের আত্মরক্ষার কৌশল।
তবে সব ক্ষেত্রেই যে বিষয়টি এত জটিল, তা নয়। অনেক ভোজনরসিক মানুষ আছেন, যাঁরা নতুন স্বাদের সন্ধানে থাকেন। তাঁদের কাছে মেনু কার্ড পড়াটা একটা অ্যাডভেঞ্চার বা অভিযানের মতো। তাঁরা প্রতিটি পদের বিবরণ পড়ে কল্পনা করার চেষ্টা করেন, কোন পদের স্বাদ কেমন হতে পারে, কোন উপকরণ তাঁদের রসনাকে তৃপ্ত করবে। এঁরা ‘ওপেননেস টু এক্সপেরিয়েন্স’ অর্থাৎ, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে আগ্রহী।
আরও পড়ুন: ৩ মিনিটে ভাঙা হাড় জুড়ে যাবে! যুগান্তকারী ‘আঠা’ আবিষ্কার চীনের বিজ্ঞানীদের, বদলে যাবে চিকিৎসাশাস্ত্রের রূপরেখা?

সুতরাং, পরের বার যখন কোনও বন্ধুকে মেনু কার্ডে মগ্ন থাকতে দেখবেন, তখন অধৈর্য না হয়ে এক বার তাঁর ভাবনার জগৎটা বোঝার চেষ্টা করতে পারেন। কারণ ওই কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি হয়তো শুধু মেনু নয়, নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও এক অলিখিত বোঝাপড়া সেরে নিচ্ছেন।