আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমাদের দেশে আজও যৌনশিক্ষা অত্যন্ত নগণ্য। ফলে পুরুষাঙ্গের আকার বা স্বাস্থ্যের কোনও  পরিবর্তন দেখলে অনেক পুরুষই দুশ্চিন্তায় ভোগেন, কিন্তু লজ্জায় মুখ খোলেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বয়স বৃদ্ধি বা জীবনযাত্রার ভুলে পুরুষাঙ্গের আকার বা দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন আসা মোটেও অলৌকিক কিছু নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে অকাট্য বৈজ্ঞানিক কারণ।

মূলত বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে এবং রক্তনালীগুলো সরু হয়ে যায়। এর ফলে যৌনাঙ্গে রক্ত সঞ্চালন কমে গিয়ে উত্থানের দৃঢ়তা হ্রাস পায়, যা অনেক সময় আকার ছোট হয়ে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করে। তবে শুধু বয়স নয়, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাও এর জন্য সমান দায়ী। যেমন, পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে পুরুষাঙ্গের একটি বড় অংশ চামড়ার নিচে ঢাকা পড়ে যায়, যাকে চিকিৎসকরা 'হিডেন পেনিস' বলেন। এক্ষেত্রে ওজন কমালে সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়।

পাশাপাশি ধূমপান ও মদ্যপানের মতো অভ্যাসগুলো সরাসরি রক্তনালীর ক্ষতি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে লিঙ্গের টিস্যুর স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়। এছাড়া 'পেয়ারোনির রোগ' বা প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের ফলেও লিঙ্গের বক্রতা বা দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক সময় মানসিক অবসাদের ওষুধ বা হরমোনাল ড্রাগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এমনটা ঘটে।

চিকিৎসকদের মতে, আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং তামাক বর্জন করলে যৌনাঙ্গের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। তবে যদি লিঙ্গের আকারে কোনও  আকস্মিক পরিবর্তন বা ব্যথা অনুভব হয়, তবে দেরি না করে একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা গ্রহণই সুস্থ যৌনজীবনের চাবিকাঠি।