আজকাল কর্মব্যস্ততার জীবন, ভুল খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চায় অনিয়ম সহ একাধিক কারণে অল্প বয়সেই জাঁকিয়ে বসছে বিভিন্ন অসুখ, প্রভাব পড়ছে প্রজনন ক্ষমতাতেও। একইসঙ্গে রোজকার এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে যা যৌনস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে পলিয়েস্টার কাপড়ের অন্তর্বাস পরলে তা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজ্ঞানীরা ১৪ জন সুস্থ পুরুষকে নিয়ে একটি পরীক্ষা করেন। তাঁদের ১২ মাস ধরে একটি বিশেষ পলিয়েস্টার স্লিং অর্থাৎ এক ধরনের কাপড়ের বেল্ট পরতে বলা হয়। এই সময়ে নিয়মিতভাবে তাঁদের বীর্যের গুণমান, শুক্রাণুর সংখ্যা, হরমোনের মাত্রা এবং অণ্ডকোষের অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল, কাপড়ের মতো সাধারণ একটি জিনিস কি সত্যিই শরীরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে? বিশেষ করে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়া, যাকে স্পার্ম প্রোডাকশন বলা হয়।
গবেষণায় একটি চমকপ্রদ বিষয় সামনে আসে। দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের শরীরে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোন যেমন টেস্টোস্টেরন একেবারে স্বাভাবিক ছিল। অর্থাৎ শরীরের হরমোনে কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু তারপরও অনেকের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়। অর্থাৎ সমস্যা হরমোনের কারণে নয়।
তাহলে সমস্যা কোথায়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি ‘লোকাল’ বা নির্দিষ্ট জায়গার সমস্যা। পলিয়েস্টার কাপড় সাধারণত তাপ বেশি ধরে রাখে এবং বাতাস চলাচল কম হতে দেয়। ফলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। শুক্রাণু তৈরির জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের বাকি অংশের তুলনায় একটু কম থাকা দরকার। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
এছাড়া, পলিয়েস্টার কাপড়ে নড়াচড়া কিছুটা কম হয় এবং এতে ইলেকট্রোস্ট্যাটিক চার্জও তৈরি হতে পারে। এই সবকিছু মিলিয়ে অণ্ডকোষের ভেতরের পরিবেশ বদলে যায়, যা সরাসরি শুক্রাণু তৈরির ওপর প্রভাব ফেলে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমাদের শরীরের কিছু কোষ খুব দ্রুত তৈরি হয়, যেমন শুক্রাণু। এই ধরনের কোষ আশপাশের পরিবেশের পরিবর্তনে খুব তাড়াতাড়ি প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাই ছোট পরিবর্তনও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এই প্রভাব স্থায়ী নয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পলিয়েস্টার ব্যবহার বন্ধ করার পর ধীরে ধীরে শুক্রাণুর সংখ্যা আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে। অর্থাৎ সমস্যাটি উল্টে দেওয়া সম্ভব। সবমিলিয়ে এই গবেষণা বলছে, শুধু হরমোন নয়, পোশাক, তাপমাত্রা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসও পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই এই বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।















