তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি বিশেষ পানীয় ভারতীয় আয়ুর্বেদ ও প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক বিজ্ঞান আজ যাকে ‘সুপার ড্রিঙ্ক' বলছে, আমাদের পূর্বপুরুষরা বহু আগেই তার উপকারিতা জেনে গিয়েছিলেন। এই রহস্যময় পানীয়টি হল হলুদ গোল্ডেন মিল্ক-যা শুধু শরীর গরম রাখে না, ভিতর থেকে প্রদাহ কমাতে দারুণভাবে কাজ করে।

হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন নামের উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। জয়েন্টের ব্যথা, হাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা সকালে উঠে শরীর ভারী লাগার সমস্যায় নিয়মিত গোল্ডেন মিল্ক দারুণ উপকার দেয়। শুধু তাই নয়, এই পানীয় নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং গভীর ঘুম আনতেও সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। নিয়মিত হলুদ গোল্ডেন মিল্ক খেলে মস্তিষ্কের কোষ সক্রিয় থাকে, স্মৃতিশক্তি ভাল থাকে এবং মস্তিষ্কের বয়স বাড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে। তাই বয়স্কদের জন্য এই পানীয় বিশেষভাবে উপকারী। নিয়মিত খেলে চিন্তাভাবনা তীক্ষ্ণ থাকে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনেকেই জানেন না। শুধু হলুদ খেলে শরীর তার সমস্ত গুণ শোষণ করতে পারে না। হলুদের উপকার পেতে হলে অবশ্যই এর সঙ্গে গোলমরিচ মেশাতে হবে। গোলমরিচে থাকা পিপারিন হলুদের কার্যকারিতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি খাঁটি, ভেজালমুক্ত হলুদ ব্যবহার করাও জরুরি।

কীভাবে বানাবেন হলুদ গোল্ডেন মিল্ক
এক কাপ গরম দুধ নিন। এর মধ্যে আধ চা-চামচ খাঁটি হলুদ গুঁড়ো দিন। সঙ্গে এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো মেশান। স্বাদ অনুযায়ী ছোট এক চামচ মধু যোগ করতে পারেন। সব উপকরণ ভাল করে মিশিয়ে নিন।

ঘুমোনোর প্রায় ৩০ মিনিট আগে এই পানীয় খেলে সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। নিয়মিত এক সপ্তাহ খেলেই জয়েন্টে হালকা ভাব অনুভব করবেন। এক মাসের মধ্যে মুখ ও শরীরের ফোলাভাব কমতে শুরু করবে। আর তিন মাসের মধ্যে শরীরের ভেতরে একেবারে অন্যরকম ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। এককথায় প্রাকৃতিক এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এই পানীয় নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীর ও মনের সুস্থতা অনেকটাই হাতের মুঠোয় চলে আসবে।