পিরিয়ডের সময় অনেক মহিলাই মানসিকভাবে নিজেকে অস্থির, ক্লান্ত বা আবেগঘন হয়ে পড়েন। অল্প কথায় রেগে যাওয়া, মন খারাপ থাকা, কান্না পেয়ে যাওয়া কিংবা সবকিছু অসহ্য লাগা-এই অনুভূতিগুলো তখন খুব স্বাভাবিক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় শরীরে হরমোনের ওঠানামার কারণেই এমন আবেগগত চাপ তৈরি হয়। ঋতুস্রাবের সময় নিজের শরীর ও মনের প্রতি একটু বেশি যত্ন নেওয়া সবচেয়ে জরুরি। সেক্ষেত্রে কিছু সহজ অভ্যাস মানলে এই মানসিক অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। এই সময় শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্লান্ত থাকে। তাই সব কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করতেই হবে, এমন চাপ নিজের উপর না নেওয়াই ভাল। একটু বেশি ঘুম, কাজের মাঝে বিশ্রাম এবং প্রয়োজনে ‘না’ বলতে শেখা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

খাবারের দিকে নজর দেওয়া দরকার। পিরিয়ডের সময় আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন সবুজ শাকসবজি, ডাল, বাদাম, কলা ইত্যাদি খেলে শরীর ও মুড দুটোই ভাল থাকে। অতিরিক্ত চিনি, কফি বা জাঙ্ক ফুড এই সময় মানসিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

হালকা শরীরচর্চা উপকারী। খুব কঠিন ব্যায়াম নয়, বরং হালকা হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করলে শরীরে ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এতে মন শান্ত হয় এবং অকারণ দুশ্চিন্তা কমে।

গরম জলের ব্যবহার মানসিক স্বস্তি দেয়। গরম জলে স্নান বা পেটের উপর হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করলে শরীর শিথিল হয়। মানসিক চাপও ধীরে ধীরে কমে আসে।

নিজের জন্য ছোট আরামদায়ক রুটিন তৈরি করা দরকার। প্রিয় গান শোনা, ডায়েরিতে মনের কথা লেখা, কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া বা চোখ বন্ধ করে বসে থাকা-এই ছোট অভ্যাসগুলো আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহজ উপায়গুলো নিয়মিত মানলে ঋতুস্রাবের সময় মানসিক অস্বস্তি অনেকটাই কমে। তবে যদি আবেগের চাপ খুব বেশি হয় বা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত।