আজকাল ওয়েব ডেস্কঃ বাচ্চাকে কোয়ান্টিটি আর কোয়ালিটি, এই দুইভাবে সময় দেওয়া উচিত।কিন্তু অভিভাবকদের এই ব্যস্ততা্র যুগে তারা কোয়ালিটি সময়ই দিতে পারেন।
বাচ্চার সাথে সময় কাটানোর জন্য সারাদিন কাছ ঘেঁষে থাকার প্রয়োজন হয় না।দিনে একঘন্টা সময় মোবাইল, ল্যাপটপ আর টি.ভি র প্রবেশ নিষেধ রাখুন নিজের জীবনে।বাচ্চার সঙ্গে খেলা করুন।দিনে একটা নির্দিষ্ট সময় রাখুন যখন বিভিন্ন রকম খেলা নিয়ে ওদের সঙ্গে মেতে থাকা যায়। 

  ইন্ডোর  হোক বা আউটডোর, পাজল, বিল্ডিং ব্লক দিয়ে বাড়ী বানানো, ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতে পারেন।  দেখবেন খেলার ছলেই অজানা তথ্য জানবেন আপনার বাচ্চার সম্পর্কে। ওর সাথে আপনার বন্ডিংটাও ভাল হবে।

একসাথে বই পড়ুন। আপনার বাচ্চার সঙ্গে কোয়ালিটি সময় কাটানোর এটি সেরা উপায়।বই পড়লে ওর মনে ইমোশনাল সিকিউরিটি তৈরী হয় যা বাচ্চার পজিটিভ চিন্তাশক্তির সহায়ক। ঘুমের আগে বই পড়া উচিত।বাচ্চা বই  পড়তে ভালোবাসার পাশাপাশি পড়ার অভ্যাসও তৈরী হবে।

একসাথে বসে ড্রইং বা  স্কুলের ক্র্যাফ্টের কাজ করুন। বাচ্চা অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবে।একসাথে গাছের পরিচর্যা করুন। এখনকার ফ্ল্যাটবাড়ীতে বাগান করার মতো জায়গা থাকে না।কিন্তু ছোটো টবে বাচ্চাকে দিয়ে গাছ লাগানো শেখান। বাচ্চাকেই দায়িত্ব দিন গাছটির পরিচর্যা করার জন্য। গাছপালা সম্পর্কে ওর মনে একটা পজিটিভ চিন্তাভাবনা তৈরী হবে।

বাড়ীতে বাচ্চার বন্ধুদের ডেকে গল্প করুন।একা একা কার্টুন দেখার থেকে বা গেমস খেলার থেকে সবার সঙ্গে খেলাধূলা করা শ্রেয়।দরকারি কোনো কাজ করার সময় আপনার বাচ্চা খুব উৎসাহ নিয়ে কিছু বলতে এলে আপনি ব্যস্ত থাকলেও শোনার  উৎসাহ রাখুন। এড়িয়ে যাবেন না। ভবিষ্যতে সে হয়ত কোনো কথা বলতেই চাইবে না।দরকারি কাজ সরিয়ে রেখে কাজ একটু পরে করুন। ওর  কথা শুনলে ভীষণ ভাললাগার মুহূর্ত তৈরি হবে ওর মনে।

বাচ্চার সাথে সময় কাটানো আজকালকার দিনে খুবই প্রয়োজনীয়। আগে বেশীরভাগ পরিবারই ছিল যৌথ। তাই ভাই বোনের সান্নিধ্যে শৈশব কাটত দারুন মজায়। কিন্তু এখন প্রায় সব পরিবারই নিউক্লিয়ার। তার ফলে বাচ্চাদের সাথে সময় কাটানোর লোকজনের বড় অভাব। কিন্তু তাদের শৈশবের আনন্দগুলোকে তো উপেক্ষা করা যায় না। তাই অভিভাবক হিসেবে তাদের কোয়ালিটি সময় দেওয়া একান্ত জরুরি। এটা যারা পালন করবেন তাদের বাচ্চারা নি:সন্দেহে সুস্থ স্বাভাবিক শৈশব পাবে।