গরমের দিনে এয়ার কন্ডিশনার এখন অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বাড়ি, অফিস কিংবা গাড়-সব জায়গাতেই এসি ব্যবহার বেড়েছে। এসি আমাদের আরাম দিলেও দীর্ঘ সময় এর মধ্যে থাকলে চুল এবং মাথার ত্বকের উপর কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত এসি-র পরিবেশে থাকার কারণে অনেকের চুল শুষ্ক হয়ে যায়, চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
এসি ঘরের বাতাস থেকে আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফলে ঘরের পরিবেশ শুষ্ক হয়ে যায়। এই শুষ্ক বাতাস মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতাও কমিয়ে দিতে পারে। যখন স্ক্যাল্পে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে না, তখন তা শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। এর ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হতে শুরু করে এবং চুল সহজেই ভেঙে যায় বা ঝরে পড়ে।
অনেকের ক্ষেত্রে শুষ্ক স্ক্যাল্পের কারণে খুশকির সমস্যাও বেড়ে যায়। খুশকি হলে মাথায় চুলকানি, জ্বালাভাব এবং অস্বস্তি দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধা পায়। পাশাপাশি মাথার ত্বক সুস্থ না থাকলে নতুন চুল গজাতেও সমস্যা হয়।
এসি-র ঠান্ডা বাতাস সরাসরি চুলে লাগলে চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই তেল চুলকে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। তেল কমে গেলে চুল রুক্ষ, নিষ্প্রাণ এবং ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অনেক সময় চুলের ডগা ফেটে যায় এবং চুলের উজ্জ্বলতাও কমে যায়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে এসি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিতে হবে। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই চুলের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রথমত, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। শরীরে জলের ঘাটতি হলে তার প্রভাব চুল ও ত্বকের উপরও পড়ে।
দ্বিতীয়ত, সপ্তাহে অন্তত এক বা দুইবার মাথায় তেল লাগান। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল স্ক্যাল্পকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, খুব গরম জল দিয়ে চুল ধোবেন না। এতে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। মাইল্ড শ্যাম্পু এবং ভালো কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
এছাড়া খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, সবুজ শাকসবজি এবং ফল রাখুন। প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও ভিটামিন চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সারাদিন এসি-তে থাকলেও সঠিক যত্ন নিলে চুলকে সুস্থ রাখা সম্ভব। তাই আরামের পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিন। এতে চুল পড়ার ঝুঁকি কমবে এবং চুল থাকবে মজবুত ও উজ্জ্বল।















