ভারত একটি গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখানকার এক বিশাল জনসংখ্যা এক অদ্ভুত পুষ্টির সংকটে ভুগছে। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ ভিটামিন ডি৩ (Vitamin D3)-র অভাবে আক্রান্ত। সেন্স ক্লিনিকের (SENS Clinic) সিনিয়য় কসমেটোলজিস্ট ডঃ আকাঙ্ক্ষা সিং-এর মতে, এই ভিটামিনের অভাব কেবল হাড়ের দুর্বলতা নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন এই ‘সানশাইন ভিটামিন’ আমাদের শরীরের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে আমরা এর ঘাটতি মেটাতে পারি।

ভিটামিন ডি২ বনাম ডি৩-র মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
অনেকেই জানেন না যে ভিটামিন ডি কোনও একক যৌগ নয়, এটি চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের একটি পরিবার।

ভিটামিন ডি৩ : এটি মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকে পড়ে, তখন ত্বকের কোলেস্টেরল থেকে প্রাকৃতিকভাবে এই ভিটামিন তৈরি হয়।


ভিটামিন ডি২: এটি মূলত উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়।
উভয় প্রকার ভিটামিনই যকৃৎ (লিভার) এবং কিডনিতে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর আমাদের শরীরের কাজে লাগে।


কেন গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হয়েও আমাদের শরীরে এর এত অভাব?

সূর্যালোক ভিটামিন ডি-র সবচেয়ে বড় উৎস হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক জীবনযাত্রা আমাদের রোদ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ডঃ সিং-এর মতে এর প্রধান কারণগুলো হল:

শহুরে জীবন: সারাদিন এসিতে বা অফিসের অন্দরে কাজ করা।

বায়ু দূষণ: দূষণের চাদর অনেক সময় অতিবেগুনি রশ্মিকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়।

সানস্ক্রিনের ব্যবহার: অতিরিক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ত্বকে রোদ প্রবেশ করতে পারে না।


হাড়ের স্বাস্থ্য থেকে মানসিক প্রশান্তি: ভিটামিন ডি৩-র বহুমুখী উপকারিতা

১. হাড় ও দাঁত মজবুত করা: অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে ভিটামিন ডি৩। এর অভাবে শিশুদের রিকেট এবং বড়দের অস্টিওপরোসিস (হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া) হতে পারে।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলে।

৩. মানসিক স্বাস্থ্য: গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-র অভাবের সঙ্গে বিষণ্ণতা এবং সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডারের গভীর যোগসূত্র রয়েছে।

খাবারের উৎস ও সাপ্লিমেন্ট -

খাবারে ভিটামিন ডি খুব সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায়।

উৎস: ডিমের কুসুম, স্যামন মাছ এবং কড লিভার অয়েল।

ফর্টিফায়েড ফুড: বর্তমানে দুধ, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল এবং কমলার রসে আলাদাভাবে ভিটামিন ডি মেশানো হয়।

সাপ্লিমেন্ট: যাদের ঘাটতি খুব বেশি, তাঁদের জন্য ডাক্তাররা সাপ্লিমেন্টের পরামর্শ দেন। তবে ডঃ আকাঙ্ক্ষা সিং-এর মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

তবে সাবধান! অতিরিক্ত ভিটামিন ডি বিপদ ডেকে আনতে পারে। সব কিছুরই ব্যালেন্স বা ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। ডঃ সিং সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট খেলে শরীরে ‘হাইপারক্যালসেমিয়া’ হতে পারে। এতে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, যার ফলে বমি ভাব, দুর্বলতা এবং এমনকি কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ :
প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট দুপুরের রোদে থাকার চেষ্টা করুন। সুষম খাবার খান এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন ডি-র মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। যদি সাপ্লিমেন্ট নিতেই হয়, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।