আজকাল ওয়েব ডেস্ক : সকাল থেকে রাত, দিনভর মানসিক চাপ। কাজের ব্যস্ততায় দু'চোখের পাতা এক করার কথা ভুলেই গিয়েছেন। মানসিক চিন্তা বা অবসাদ অজান্তেই গ্ৰাস করে আমাদের। যার ফলাফল হিসেবে রাতে শুয়ে শুধু এপাশ আর ওপাশ। ঘুম চলে যায় চোখ থেকে। হাজার ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে পড়লেও ঘুমের নাম নেই।
অনিদ্রার সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে এটি স্থায়ী রোগে পরিণত হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ইনসমনিয়া’। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহজে ঘুম আসে না। আবার আসার পর তা যদি একটিবার ভেঙে যায়, তাহলে ফের ঘুমের দেশে পাড়ি দিতে কাঠখড় পোড়াতে হয়।
তবে চিন্তা নেই। সমস্যা থাকলে তার সমাধানও আছে অবশ্যই। বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী,ঘুমের সমস্যায় কিছু জিনিসকে আপনার আশেপাশে একেবারেই ঘেঁষতে দেবেন না। বলা হয়, সেই জিনিসের নেগেটিভ শক্তি আপনার উপর পড়ে। এবং মূল্য চুকোতে হয় সাধের ঘুম দিয়ে।
১) মোবাইলের আসক্তি বর্তমান সময়ের একটি প্রধান সমস্যা। অনেকে এই কারণে অনিদ্রাতেও ভোগেন। কারও অভ্যেস থাকে একটানা সিনেমা, সিরিজ, রিল ভিডিও দেখার। এর ফল মারাত্মক হতে পারে। তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। ঘুমের সময় মোবাইল বা কোন রকম ইলেকট্রনিক গ্যাজেট আপনার আশেপাশে রাখবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন উত্তেজনাপ্রবণ উপাদান দেখায় যাতে ঘুমের ভাব কেটে গিয়ে শরীর উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং মাথায় নানা ধরনের কথা চলতে থাকে।তাই আপনার সাধের মোবাইলটিকে অন্তত ঘুমানোর আগে বিশ্রাম দিন।
২) সঠিক জ্ঞানের অভাবে মানুষ অজান্তেই অনেক ভুল করে থাকে। ঘুমোনোর সময় মাথার কাছে বা খাটের নীচে জুতো রাখা উচিত নয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে,এতে অশুভ শক্তি প্রশ্রয় পায় এবং নষ্ট হতে পারে ঘুম। এবং সংসারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
৩) ঘুমনোর আগে অনেকের পড়ার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু শোওয়ার সময় খবরের কাগজ অথবা বই-খাতা মাথার পাশে রাখতে নেই। বাস্তু অনুযায়ী, বিদ্যার দেবী এতে অসন্তুষ্ট হন। যার প্রভাব পড়াশোনায় পড়তে পারে। অবশ্য বিশ্বাস করা অথবা না করা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত বিষয়।
তবে সুস্থ শরীরের জন্য প্রয়োজন ভাল ঘুমের। তাতেই দূর হয় ক্লান্তি এবং নতুন দিন শুরুর মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া যায়। প্রতিদিন অন্তত ছ’ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমোতেই হবে। ঘুমের ঘাটতিতে একাধিক শারীরিক ও মানসিক রোগ হতে পারে। তাই অনিদ্রার সমস্যা থাকলে একেবারেই অবহেলা করবেন না। উল্লেখ্য, ধ্যান ও সঠিক ভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম ঘুমে খুবই সহায়তা করতে পারে। প্রতিদিন তা নিয়ম করে অনুশীলন করলে মানসিক চাপ ও অনিদ্রা, দুই সমস্যা থেকেই মুক্তি মিলতে পারে।
পাশাপাশি, অনিদ্রা দূর করতে হলে কমাতে হবে ক্যাফিনের পরিমাণ। সন্ধ্যার পর চা-কফি পান করবেন না। পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করতে হবে। রোজকার খাবারে প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে।















