পড়াশোনা করার কোনও বয়স হয় না, এই কথাটাই যেন বাস্তবে প্রমাণ করলেন ৪৫ বছরের জিগীষা টেলর। ছেলের অনুপ্রেরণায় বহু বছর পর আবার বই হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। আর সেই পরিশ্রমের ফল মিলল আইআইটি মাদ্রাসের সমাবর্তন মঞ্চে। সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল, ২১ বছরের ছেলে আদিত্য কাপাডিয়ার সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ডিগ্রি গ্রহণ করেন জিগীষা। উপস্থিত সকলেই করতালিতে তাঁদের অভিনন্দন জানান।

জানা গিয়েছে, আদিত্য আইআইটি মাদ্রাসের অনলাইন ডেটা সায়েন্স (BS in Data Science and Applications) কোর্সে ভর্তি হন। ছেলের পড়াশোনা দেখে অনুপ্রাণিত হন জিগীষাও। তিনি একই প্রতিষ্ঠানের ডেটা সায়েন্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন এবং ডিপ্লোমা সম্পূর্ণ করেন। যদিও মা ও ছেলে আলাদা সময়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তবু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সমাবর্তন একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়।
জিগীষার কাছে এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব সামলে ভোর সাড়ে চারটেয় উঠে পড়াশোনা করতেন তিনি। সকাল সাতটার মধ্যে পড়া শেষ করে বাড়ির কাজ করতেন। এরপর দুপুরে আবার সময় বার করে ক্লাস ও অ্যাসাইনমেন্টে মন দিতেন। পরিবারের দায়িত্ব এবং পড়াশোনা, দুই-ই সমান দক্ষতায় সামলেছেন তিনি।

এই পড়াশোনার পথে মা-ছেলে শুধু সহপাঠীই ছিলেন না, একে অপরের অনুপ্রেরণাও ছিলেন। কখনও একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন, কখনও আবার স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একে অপরকে আরও ভাল করার উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের এই অনন্য সম্পর্ক সমাবর্তনের আগেই সহপাঠীদের নজর কেড়েছিল। পরে এক সহপাঠীর অনুরোধেই সমাবর্তনে তাঁদের একসঙ্গে মঞ্চে ডাকার ব্যবস্থা করা হয়।

ডিগ্রি নেওয়ার সেই মুহূর্তটি ছিল তাঁদের কাছেও সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। একই সঙ্গে ডিগ্রি গ্রহণের সময় গোটা অডিটোরিয়াম হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে। বহু ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকের চোখেও জল সেই মুহূর্তে। এই ঘটনা শুধু আইআইটি মাদ্রাসের সমাবর্তনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তই নয়, বরং আজীবন শেখার মানসিকতারও এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

জিগীষার এই সাফল্যের গল্প নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, স্বপ্নপূরণের জন্য বয়স কোনও বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তি, পরিবারের সমর্থন এবং অধ্যবসায় থাকলে জীবনের যে কোনও পর্যায়েই নতুন করে শুরু করা সম্ভব। মা ও ছেলের এই অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রা ইতিমধ্যেই বহু মানুষের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠেছে।