আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি গত কয়েক বছরে অনেকটাই বদলে গিয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতি, আয়কর বিভাগের ই-ফাইলিং পোর্টালের আধুনিকীকরণ এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ার ফলে এখন অধিকাংশ করদাতাই অনলাইনে সহজেই রিটার্ন দাখিল করছেন।
2
11
বেতন স্লিপ, ফর্ম ১৬, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগের প্রমাণপত্র থেকে শুরু করে ক্যাপিটাল গেইনস স্টেটমেন্ট—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নথিই এখন ডিজিটাল আকারে পাওয়া যায়। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, ডিজিটাল কপি থাকলে কি এখনও কাগজের নথি সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক?
3
11
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটি ডিজিটাল নথির প্রিন্টআউট সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে নথিগুলি অবহেলা করা যাবে।
4
11
বরং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি নিরাপদভাবে ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে তা দ্রুত দেখানোর মতো অবস্থায় রাখতে হবে।
5
11
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়কর বিভাগ ভবিষ্যতে যদি কোনও তথ্য যাচাই, মূল্যায়ন বা ব্যাখ্যা চায়, তাহলে করদাতাকে সেই দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে। তাই সমস্ত ডিজিটাল রেকর্ড সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
6
11
করদাতাদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি সবসময় হাতের কাছে রাখা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে ফর্ম ১৬, অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, ক্যাপিটাল গেইনস রিপোর্ট, বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, কর ছাড়ের নথি এবং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ। এগুলি ভবিষ্যতে কোনও নোটিস বা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
7
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ডিজিটাল কপি থাকলেই চলবে, যদি সেগুলি সম্পূর্ণ, সঠিক এবং নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি একাধিক ব্যাকআপ রাখা উচিত, যাতে কোনও কারণে মূল ফাইল হারিয়ে গেলেও তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
8
11
যারা ব্যবসা করেন বা স্বাধীন পেশাজীবী, তাঁদের ক্ষেত্রে নথি সংরক্ষণের দায়িত্ব আরও বেশি। আয়কর আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হিসাবের বই, বিল, ভাউচার এবং অন্যান্য আর্থিক নথি সংরক্ষণ করতে হয়। তাই এই শ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডিজিটাল রেকর্ড নয়, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
9
11
২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের আইটিআর দাখিলের সময়ে কর বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি একবার মিলিয়ে নেওয়া উচিত। এর মধ্যে বর্তমান বছরের ফর্ম ১৬, বেতন স্লিপ, আগের বছরের আইটিআর, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং অন্যান্য আয়ের তথ্য যাচাই করা জরুরি।
10
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, অযথা বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জমিয়ে রাখার পরিবর্তে একটি সুসংগঠিত ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়। গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি আলাদা ফোল্ডারে সংরক্ষণ করা, ক্লাউড স্টোরেজ বা এক্সটার্নাল ড্রাইভে ব্যাকআপ রাখা এবং সময়ে সময়ে সেগুলি আপডেট করা ভবিষ্যতের কর সংক্রান্ত যেকোনও জিজ্ঞাসা বা নোটিসের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দিতে পারে।
11
11
সব মিলিয়ে বলা যায় বর্তমান ডিজিটাল যুগে কাগজের নথির গুরুত্ব আগের তুলনায় কমলেও, সঠিকভাবে সংরক্ষিত ডিজিটাল ডকুমেন্টই এখন করদাতাদের সবচেয়ে বড় ভরসা। তবে সেই নথিগুলি যেন সম্পূর্ণ, নির্ভুল এবং সহজে উপস্থাপনযোগ্য থাকে, সেদিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন কর বিশেষজ্ঞরা।