আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুগ বদলাচ্ছে। প্রযুক্তি আরও সহজ হচ্ছে। ক্রমশ বাড়ছে ডিজিটাল সাংবাদিকতার। চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন সংবাদপত্র। চলছে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অনবড়ত লড়াই। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় বহু বদল এসেছে। এই পরিবর্তন জারি থাকবে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীদের আগামীর এই বাস্তবমুখী লড়াইয়ে সামিল করতে তাই  নিউ আলিপুর কলেজের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ সংবাদপত্র ডিজাইন, লেআউট এবং ডিজিটাল যুগে সংবাদপত্র শিল্পের চ্যালেঞ্জের উপর একটি ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করেছে। এই কর্মশালা ও বক্তৃতামালার মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল যুগে সংবাদপত্র শিল্পে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের দক্ষ করে তোলা। 

চারটি ভিন্ন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত চার অভিজ্ঞ সাংবাদিক এই কর্মশালার বিশেষজ্ঞ। শিক্ষার্থীরা সম্পাদকীয় নীতি এবং ডিজিটাল যুগে সংবাদপত্রগুলো যে বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হচ্ছে, সে সম্পর্কে জানতে পারছেন। শিক্ষার্থীদের কোয়ার্ক এক্সপ্রেস এবং ইনডিজাইন সফটওয়্যারে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মিডিয়া গবেষণার কেস স্টাডি হিসেবে বিভিন্ন সংবাদপত্রের একটি তুলনামূলক পাঠও এই কর্মশালায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।  

নিউ আলিপুর কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. অমর্ত্য সাহা বলেন, "কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সিসিএফ ইউজি পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের এবং শিল্পক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। যে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগকে তাঁদের প্রধান বিষয় হিসেবে পড়ছে, তাঁদের চার বছরের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্রডশিট ও ট্যাবলয়েড ডিজাইনিং রয়েছে।"

সংবাদ প্রতিদিনের সিনিয়র সাব-এডিটর অনিন্দ্য সিনহা চৌধুরী কোয়ার্কএক্সপ্রেসে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ডিজাইন লেআউটের বিভিন্ন দিক শেখানোর উপর জোর দেন। শিক্ষার্থীদের কলকাতা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা দৈনিকেরমূল দিকগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন। 

এই সময়ের সিনিয়র সাব-এডিটর ও রিপোর্টার সায়ন কর্মকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নীতির তুলনা করার উপর জোর দেন এবং একটি নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন খবরের স্থান নির্ধারণ ও অগ্রাধিকার ব্যাখ্যা করেন। এরপর ইনডিজাইন সফটওয়্যারে একটি বিস্তারিত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। 

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট নিউজ এডিটর সম্বুদ্ধ চক্রবর্তী ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে স্থানীয় দৈনিকগুলো জাতীয় দৈনিক থেকে আলাদা। অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম শেষে চাকরি পেতে সক্ষম করে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তিনি সংবাদপত্রের বিভিন্ন পৃষ্ঠা, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা এবং লেআউট নিয়ন্ত্রণকারী সম্পাদকীয় নীতি ব্যাখ্যা করেন। 

মিলেনিয়াম পোস্টের বিশেষ সংবাদদাতা সৌমিত্র নন্দী মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টিংয়ের চ্যালেঞ্জগুলোর উপর আলোকপাত করবেন।

নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ জয়দীপ সারেঙ্গী বলেন,"পরিচয় রাজনীতির জন্য সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, সমাজ বা সম্প্রদায়ের পরিচয় নির্মাণ এবং ধারণা তৈরি করা আজকের দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতামত দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংবাদপত্র অপরিহার্য।"

নিউ আলিপুর কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডঃ অমর্ত্য সাহা বলেন, "সংবাদপত্র শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদার দিকে শিক্ষার্থীদের অভিমুখী করা গুরুত্বপূর্ণ।" ডিজিটাল মিডিয়া বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু ভারতে বিশ্লেষণধর্মী ও মানসম্মত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সংবাদপত্রই মেরুদণ্ড হিসেবে রয়ে গিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

কর্মশালার অংশ হিসাবে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব ট্যাবলয়েড এবং ব্রডশিট সংবাদপত্র প্রতিবেদন তৈরি, সংকলন এবং প্রকাশ করবে, যার মাধ্যমে তারা তাদের অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবে।