আজকাল অনেক যুগল বিমানে একসঙ্গে বসছেন না। আলাদা আলাদা সিটে বসতে চাইছেন তাঁরা। এই নতুন প্রবণতাকে বলা হচ্ছে 'সিট ডিভোর্স'। নামটা শুনে প্রথমে অনেককের অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু বিষয়টা আসলে আধুনিক সম্পর্কের একটি স্বাভাবিক অংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন ব্যক্তিগত জায়গাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একসঙ্গে থাকা মানেই সব সময় একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নয়। অনেক যুগল চাইছেন, তাঁরা একসঙ্গে ভ্রমণ করবেন কিন্তু নিজের মতো করে সময়ও কাটাতে পারবেন। বিমানের ছোট সিটে একসঙ্গে বসলে অনেক সময় অস্বস্তি বা বিরক্তি হতে পারে। তাই আলাদা বসার মাধ্যমে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে পারেন।

'সিট ডিভোর্স'-এর আরও একটি কারণ হল সমাজমাধ্যম। মানুষ এখন ভ্রমণের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করতে ভালবাসে। আলাদা বসলে নিজের অভিজ্ঞতা আলাদাভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যায়। কেউ হয়তো চাইছেন, তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা হোক, অন্যের সঙ্গে মিলিয়ে না।

এদিকে এয়ারলাইনগুলোর জন্যও এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আগে যুগলরা একসঙ্গে বসার জন্য বুকিং করতেন। এখন অনেক যাত্রী নিজের সুবিধা মতো সিট বেছে নিচ্ছেন। তাই কিছু এয়ারলাইন এখন 'কো-অফসেট সিটিং' বা আলাদা বসার সুবিধা দিচ্ছে, যাতে যুগলরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আলাদা বসা সম্পর্কের জন্য খারাপ কিছু নয়। বরং এটি মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ায়। দীর্ঘ ভ্রমণের সময় যদি ছোট ছোট বিরতি বা ব্যক্তিগত জায়গা থাকে, তাহলে চাপ কমে এবং সম্পর্ক আরও সুস্থ থাকে। যাকে 'স্বাধীনতার রক্ষণাবেক্ষণ' বলেও মনে করছেন অনেকে। 

'সিট ডিভোর্স' এখন শুধু ফ্যাশন নয়। এটি যুগলের মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার একটি নতুন উপায়। যুগলরা একে অপরকে বোঝেন, স্বাধীনতা দেন এবং ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলেন। তাই এই প্রবণতা ধীরে ধীরে সাধারণ হয়ে উঠছে এবং আধুনিক সম্পর্কের একটি নতুন দিক তুলে ধরছে।