প্রোটিন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কিছু ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ মনে করেন, প্রোটিন খেলেই শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠবে, আবার কেউ ভাবেন, নিরামিষ খাবার খেলে শরীরের প্রোটিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। এই সব ভুল ধারণা ভাঙতে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেতা রণবীর কাপুরের ফিটনেস ট্রেনার। তাঁর মতে, প্রোটিন শুধু জিমে যাওয়া মানুষদের জন্য নয়, বরং প্রত্যেকের সুস্থ শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্রোটিন মানেই পেশি ফুলে যাবে, এই ধারণা ভুল। অনেকেই বিশেষ করে মহিলারা ভয় পান, প্রোটিন খেলে নাকি শরীর খুব মোটা বা পেশিবহুল হয়ে যাবে। কিন্তু রণবীরের ট্রেনারের কথায়, শুধুমাত্র প্রোটিন খেলে এমন কিছু হয় না। পেশি বড় করতে হলে নিয়মিত কঠোর ব্যায়াম, ভারী ওজন তোলা এবং বেশি ক্যালোরি নেওয়া দরকার। প্রোটিন আসলে শরীরের ক্ষয় হওয়া অংশ মেরামত করে এবং শক্তি জোগায়।
আরেকটি বড় ভুল ধারণা হল, প্রোটিন কেবল বডিবিল্ডার বা জিমে যাওয়া মানুষের দরকার। বাস্তবে প্রোটিন আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের জন্য প্রয়োজনীয়। পেশি, হাড়, ত্বক, চুল, এমনকী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতেও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই যাঁরা অফিসে কাজ করেন বা ঘরে থাকেন, তাঁদেরও পর্যাপ্ত প্রোটিন দরকার।
নিরামিষ খাবারে কি প্রোটিন কম? অনেকের ধারণা, নিরামিষ খাবার থেকে নাকি যথেষ্ট প্রোটিন পাওয়া যায় না। এই ধারণাকেও ভুল বলেছেন রণবীরের ফিটনেস ট্রেনার। ডাল, ছোলা, রাজমা, সয়াবিন, পনির, দই, বাদাম, বীজ- এই সব খাবারেই ভাল পরিমাণে প্রোটিন থাকে। ঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে নিরামিষ ডায়েটেও শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
ভারতীয় খাবারেই কি সব প্রোটিন পাওয়া যায়? ভারতীয় খাবারে প্রোটিন আছে ঠিকই, কিন্তু অনেক সময় আমরা পরিমাণের দিকে নজর দিই না। শুধু ভাত-রুটি আর অল্প ডাল খেলেই প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া যাবে, এমন ভাবা ভুল। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আলাদা করে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা দরকার।
বেশি প্রোটিন কি কিডনি বা লিভারের ক্ষতি করে? এই ভয়ও অনেকের মধ্যে আছে। ট্রেনারের মতে, যাঁরা সুস্থ মানুষদের জন্য পরিমিত মাত্রায় প্রোটিন খাওয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে আগে থেকে কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক মাত্রায় ও সঠিক উৎস থেকে প্রোটিন খেলে শরীর সুস্থ থাকে। তাই ভুল ধারণা দূর করে সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।
