এক কাপ গরম চা দিনের শুরুতে বা কাজের ফাঁকে অনেকেরই এনার্জি জোগায়। কিন্তু সেই চা-ই অজান্তে শরীরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা! এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।


বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আজকাল বাজারে অনেক টি-ব্যাগ পুরোপুরি কাগজের নয়। এগুলোর মধ্যে নাইলন বা পলিপ্রোপিলিনের মতো প্লাস্টিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। যখন এই টি-ব্যাগ ফুটন্ত গরম জলে ডোবানো হয়, তখন সেগুলো থেকে অতি সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা বেরিয়ে আসে।


গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একটি টি-ব্যাগ থেকেই এক কাপ চায়ের মধ্যে প্রায় শত কোটি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণা মিশে যেতে পারে। এই কণাগুলো এতই ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু সহজেই শরীরের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো মানুষের অন্ত্রে পৌঁছে কোষের মধ্যেও ঢুকে যেতে পারে। কিছু পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শরীরের কোষ এই কণাগুলো শোষণ করতে সক্ষম। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কী হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট না হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এর আগেও বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের রক্ত, ফুসফুস এমনকি মস্তিষ্কেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। ফলে টি-ব্যাগের মাধ্যমে প্রতিদিন এই কণা শরীরে প্রবেশ করে ভবিষ্যতের নানা জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।


তবে সব বিশেষজ্ঞ এই বিষয়ে একমত নন। কেউ কেউ মনে করছেন, এই ফলাফল আরও পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন এবং বাস্তবে ঝুঁকি কতটা, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


এদিকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। প্লাস্টিকযুক্ত টি-ব্যাগ বাদ দিয়ে কাগজের বা প্লাস্টিকমুক্ত টি-ব্যাগ ব্যবহার করা ভাল। আরও নিরাপদ বিকল্প হিসেবে খোলা চা-পাতা দিয়ে চা বানানোর কথাও বলছেন বিজ্ঞানীরা। 

প্রতিদিনের অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই অদৃশ্য বিপদ থেকে অনেকটাই দূরে থাকা সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের।