কৈশোরে প্রথম ঋতুস্রাব শুরু থেকে মেনোপজ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের সঠিক পরিচর্যা এবং জীবনধারা মহিলাদের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং সর্বোপরি প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই পিরিয়ডের সময়ে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। সচেতনার অভাবে অনেকেই অনিয়মিত ঋতুস্রাব, অতিরিক্ত ব্যথা, সংক্রমণ বা ত্বকের সমস্যা উপেক্ষা করে যান। কিন্তু হঠাৎ ঋতুস্রাবচক্র পরিবর্তন, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব বা তীব্র ব্যথা অনেকসময় পিসিওএস, থাইরয়েড সমস্যা, ফাইব্রয়েড বা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে সঠিক পরিচর্যার অভাব থেকে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস বা মূত্রনালীর মতো সংক্রমণ হতে পারে যা দীর্ঘমেয়াদে প্রজনন অঙ্গের ক্ষতি করে গর্ভধারণে জটিলতা তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতিমাসে পিরিয়ডের সময় কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলা উচিত? সেবিষয়ে জানালেন আভা সার্জি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কনসালটেন্ট ড. বাণী কুমার মিত্র।
* আরামদায়ক ও সঠিক স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে হব এবং প্রতি ৪–৬ ঘণ্টা পর প্যাড পরিবর্তন করুন।
* গোপনাঙ্গে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। পরিষ্কার জল এবং হালকা পিএইচ-সমৃদ্ধ ক্লিনজার দিয়ে ধুযতে পারেন। ক্ষারযুক্ত সাবান বা সুগন্ধিযুক্ত জিনিস এড়িয়ে চলুন।
* আয়রন, ফোলেট ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন পালং শাক, বিট, বাদাম ও খেজুর খান।
* প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান ও হালকা ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
* নিয়মিত ঋতুস্রাব চক্র খেয়াল রাখুন।
* স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম করতে পারেন।
এখনও সমাজের অনেক স্থানে ঋতুস্রাব নিয়ে নানা ভুল ধারণা রয়েছে। যেমন মাসের ওই কটা দিন স্নান না করা, নির্দিষ্ট খাবার নিষিদ্ধ, বা সামাজিক কার্যক্রম এড়িয়ে চলা। এসব ধারণা মেয়েদের সঠিক পরিচর্যা থেকে দূরে রাখে এবং শেষে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে। তাই পরিবার, স্কুল ও সমাজে খোলামেলা আলোচনা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋতুস্রাবে যে কোনও রকম সমস্যা নজরে এলে স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নেওয়া উচিত। পিসিওএস বা থাইরয়েডের মতো রোগ থাকলে বাড়তি নজর দিন।
