আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে গরম, অন্যদিকে কয়েকদিন পর পর কালবৈশাখী। জমা জলে মশার বংশবৃদ্ধি হওয়ার একেবারে আদর্শ পরিবেশ। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এই সময় ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি বা চিকুনগুনিয়াতে আক্রান্ত হন। একই সঙ্গে বারে মাছির উপদ্রবও। পোকামাকড়ের সমস্যা দূর করতে একটি সহজ বন্দোবস্ত করতে পারেন। বাড়িতে এমন কিছু গাছ লাগাতে পারেন, যেগুলি মশা-মাছির উপদ্রব কমাতে সাহায্য করে। এই গাছগুলো থেকে নিঃসৃত বিশেষ গন্ধ পোকাদের দূরে রাখে।
১. ল্যাভেন্ডার: ল্যাভেন্ডার গাছের ফুল এবং পাতায় লিনালুল নামক একটি প্রাকৃতিক যৌগ থাকে, যার গন্ধ মশাদের জন্য অপ্রীতিকর। এই তীব্র সুগন্ধের কারণেই মশা এবং অন্যান্য কিছু কীটপতঙ্গ ল্যাভেন্ডার গাছের আশেপাশে আসতে চায় না। এছাড়া ল্যাভেন্ডার ফুল থেকে প্রাপ্ত তেল (ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল) একটি পরিচিত মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক উপাদান। এই তেল সরাসরি ত্বকে (সঠিকভাবে তরল করে) বা বিভিন্ন ডিফিউজারে ব্যবহার করা যায়। ল্যাভেন্ডার গাছের ফুল পিষে বা সামান্য ঘষে ত্বকে লাগালেও এর তেল মশাদের দূরে রাখতে পারে। ল্যাভেন্ডার গাছে এক ধরনের শক্তিশালী সুগন্ধযুক্ত তেল (এসেনশিয়াল অয়েল) থাকে, যা লিনালুল এবং লিনাইল অ্যাসিটেটের মতো যৌগের কারণে তৈরি হয়। এই গন্ধ মানুষের কাছে সুখকর হলেও মশারা সাধারণত এটি পছন্দ করে না এবং এর থেকে দূরে থাকতে চায়।
২. গাঁদা: গাঁদা ফুল গাছ শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, মশা তাড়াতেও বেশ কার্যকর। গাঁদা ফুলে পাইরেথ্রাম নামক একটি উপাদান থাকে, যা অনেক মশা তাড়ানোর স্প্রে বা ধূপেও ব্যবহৃত হয়। এর তীব্র গন্ধ মশাদের দূরে রাখে। বাড়ির বারান্দায় বা জানালার কাছে টবে এই গাছ লাগালে মশা কম আসে।
৩. তুলসী: তুলসী গাছ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দেখা যায় এবং এর অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। মশা তাড়ানোর ক্ষেত্রেও তুলসী বেশ উপকারী। তুলসীর তীব্র গন্ধ মশাদের জন্য অস্বস্তিকর, তাই তারা এই গাছের আশেপাশে কম ভিড় করে। বিশেষ করে রাম তুলসী, শ্যামা তুলসী মশা তাড়াতে সহায়ক।
৪. সাইট্রোনেলা: সাইট্রোনেলা ঘাস মশা তাড়ানোর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এই গাছের পাতা থেকে নিঃসৃত তেলে তীব্র লেবুর মতো গন্ধ থাকে, যা মশাদের অত্যন্ত অপছন্দের। অনেক মশা তাড়ানোর লোশন, স্প্রে বা মোমবাতিতে সাইট্রোনেলা তেল ব্যবহার করা হয়। এটি টবে লাগিয়ে বারান্দা বা দরজার কাছে রাখলে মশার উপদ্রব কমে।
