মহিলাদের জন্য বিরাট সিদ্ধান্ত। এবার ঋতুস্রাব চলাকালীন একদিন ছুটি নিতে পারবেন মহিলারা। অর্থাৎ বছরে পাবেন মোট ১২টি ছুটি। যার জন্য বেতনও কাটা হবে না। এমনই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্নাটক সরকার।। এই নীতি কার্যকর হলে কার্নাটক হবে ভারতের প্রথম রাজ্য, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি-দুই খাতেই মহিলা কর্মীরা সমানভাবে এই সুবিধা পাবেন। 

কর্ণাটকের মন্ত্রিসভা সম্প্রতি 'পিরিয়ডস লিভ পলিসি ২০২৫ 'নামে নতুন একটি নীতি অনুমোদন করেছে। সেই নীতি অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি দফতর, আইটি কোম্পানি, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, বেসরকারি সংস্থা সহ সব জায়গাতেই মহিলা কর্মীরা মাসে একদিন করে পেইড ছুটি পাবেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে কর্মজীবী ​​মহিলাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের কথা মাথায় রেখে এবং একটি সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে সমতার ক্ষেত্রে এক 'ঐতিহাসিক পদক্ষেপ' হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

আরও পড়ুনঃ রাতে প্রস্রাবের জন্য বার বার ঘুম ভাঙে? শুধু ডায়াবেটিস নয়, হতে পারে এই সব ভয়ঙ্কর রোগের ইঙ্গিত

ভারতের ‘সিলিকন ভ্যালি’ বেঙ্গালুরুতে আইটি ও কর্পোরেট জগতে মহিলাদের বড় অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের জন্য একদিনের ছুটি দেওয়ার মাধ্যমে যে সব বিষয়গুলোকে জোর দেওয়া হয়েছে তা হল- কর্মক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি, ঋতুস্রাবজনিত যন্ত্রণা বা শারীরিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি, মানসিক চাপ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সম্ভাবনা। 

এর আগে বিহার এবং ওড়িশায় কেবল সরকারি কর্মীদের জন্য পিরিয়ড লিভের নিয়ম ছিল। কেরালা রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরও পরীক্ষার সময় বিশেষ ছুটির সুবিধা দিয়েছে। তবে কর্নাটকার মতো কোনও রাজ্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে এই সুবিধা সমানভাবে কার্যকর করেনি। অন্যদিকে, কিছু নামী সংস্থা যেমন জোম্যাটো, সুইগি, বাইজু'স,এলঅ্যান্ডটি-নিজেদের সংস্থায় ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছাসেবীভাবে ঋতুস্রাব ছুটি চালু করেছে।

যদিও নীতিটি সব মহলেই প্রশংসিত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞের একাংশের মতে, বিশেষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এই নিয়ম কার্যকর করা কঠিন হতে পারে। অনেক সময় সামাজিক মনোভাবের কারণে কর্মস্থলে মহিলা কর্মীরা এই ছুটি নিতে দ্বিধায় পড়তে পারেন। তাই বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা বাড়ানোও জরুরি।

কর্নাটকের এই নীতিকে অনেকেই ভারতের কর্মসংস্কৃতিতে 'নারী বিপ্লবের সূচনা'হিসেবে দেখছেন। দক্ষিণের এই রাজ্যের সরকারের দাবি, নীতিটি কার্যকর হলে মহিলা কর্মীদের স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস এবং কর্মদক্ষতা-সবই উন্নত হবে। এটি শুধুমাত্র একদিনের ছুটি নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের স্বাস্থ্যের প্রতি সম্মানের প্রতীক হতে চলেছে।