আমাদের শরীরে কিডনির কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বের করে দেয়। তাই অনেকেই মনে করেন, প্রস্রাবের রং বা গঠন দেখেই কিডনির সব সমস্যা ধরা যায়। 

চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। প্রস্রাব অনেক তথ্য দিলেও, শুধুমাত্র সেটি দেখে কিডনি সুস্থ না অসুস্থ, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

সাধারণত হালকা হলুদ বা ফিকে হলুদ রঙের প্রস্রাব স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। এর অর্থ শরীরে পর্যাপ্ত জল রয়েছে। কিন্তু যদি প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়ে যায়, তাহলে তা শরীরে জলের অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে। আবার বিট, ব্ল্যাকবেরি, গাজরের মতো কিছু খাবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স বা কিছু ওষুধ খেলেও প্রস্রাবের রং বদলে যেতে পারে। তাই রং পরিবর্তন মানেই কিডনির রোগ, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

তবে কিছু পরিবর্তনকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। যদি প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায়, বারবার ফেনা তৈরি হয়, প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ থাকে, প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ অনেক কমে যায় বা প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এগুলি কিডনির সমস্যা, মূত্রনালির সংক্রমণ, পাথর বা অন্য কোনও রোগের লক্ষণ হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কিডনির প্রকৃত অবস্থা জানতে কয়েকটি পরীক্ষা করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে ইউরিন টেস্ট, যেখানে প্রস্রাবে প্রোটিন বা অ্যালবুমিন আছে কি না দেখা হয়। এছাড়া রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, ইজিএফআর পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে আল্ট্রাসোনোগ্রাফিও করা হয়। এই পরীক্ষাগুলির মাধ্যমেই কিডনি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব।

কিডনি ভাল রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা খুবই জরুরি। অতিরিক্ত লবণ, তেল-মশলাযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেতে হবে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অবশ্যই সেগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, কারণ এই দুই রোগই কিডনি নষ্ট হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যথার ওষুধ খাওয়াও কিডনির ক্ষতি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির অনেক রোগই প্রথম দিকে কোনও স্পষ্ট লক্ষণ দেখায় না। তাই শুধু প্রস্রাবের রং দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকা ঠিক নয়। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা পরিবারে কিডনির রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।

মনে রাখবেন, প্রস্রাব আপনার শরীরের স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় ঠিকই, কিন্তু সেটিই শেষ কথা নয়। কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন কয়েকদিন ধরে দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা অনেক সহজ হয়।