সম্পর্কের মূল ভিত্তি বিশ্বাস। কথায় বলে, বিশ্বাস একবার ভেঙে জোড়া লাগা মুশকিল। সঙ্গীর ছোট ছোট বিষয়ও অনেকের মনে গভীর আঘাত করতে পারে। ইদানীং অন্যান্য বিষয়ে মতো সম্পর্কের বন্ধনেও সমাজ মাধ্যমের প্রভাব নজরে আসে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে কি বিচ্ছেদ হতে পারে? সম্প্রতি সেই প্রশ্নই যেন সামনে এসেছে আদালত। 

ডিভোর্স নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আদালতের নানা চমকপ্রদ রায় দেখা গেছে। ঠিক যেমন সোশ্যাল মিডিয়া যে দাম্পত্য সম্পর্কে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, তা তুরস্কে এক নজিরবিহীন আদালতের রায়ে নজির মিলেছে। সম্প্রতি দেশটির একটি সিভিল আপিলেট কোর্ট জানায়, স্বামী যদি নিয়মিত অন্য মহিদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘লাইক’ করেন, তবে তা বিবাহের স্থিতিশীলতায় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমনকী এই কারণে স্বামী-স্ত্রী-র সম্পর্কে আইনি জটিলতাও আসতে পারে। 

ঘটনাটি ঘটে তুরস্কের কাইসেরি অঞ্চলে। সেখানে এক মহিলা অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন নারীর ছবি ‘লাইক’ করতেন। এতে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পান, স্বামীর প্রতি বিশ্বাস ভেঙে যায় এবং পরিবারের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর দাবি, এসব আচরণ সরাসরি অবিশ্বাসের সমান না হলেও, আত্মমর্যাদা ও দাম্পত্য শান্তির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এ নিয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন এবং বিরাট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

প্রথমে আদালত ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্বামীকে 'দোষী' ঘোষণা করে। রায়ে স্বামীকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, মানসিক ক্ষতিপূরণ খোরপোশের টাকা দিতে বলা হয়। সঙ্গে আদালত জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘লাইক’ করা সরাসরি পরকীয়া নয়, কিন্তু এটি এমন মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে যা একজন স্ত্রীর নিরাপত্তাবোধ ও মানসিক শান্তিকে ভেঙে দেয়।

এরপর মামলাটি আপিলেট কোর্টে যায়। সেখানেও বিচারকরা একই মত প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, আধুনিক যুগে সোশ্যাল মিডিয়া কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণকে হালকাভাবে নিলে চলবে না। বিচারকদের মতে, যখন সোশ্যাল মিডিয়া কোনও দাম্পত্য সম্পর্কে সন্দেহ, উদ্বেগ বা মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে, তখন সেটিকে আদালতে গুরুত্ব দিয়েই দেখা উচিত।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় ভবিষ্যতে তুরস্কে পারিবারিক মামলার ধরণ পরিবর্তন করবে। শুধু বাস্তবে কী ঘটছে তাই নয়, ভার্চুয়াল জগতে একজন অংশীদার কেমন আচরণ করছেন, তাও এখন আইনি বিচারের আওতায় আসবে।অনেকেই মনে করছেন, এই যুগে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের জীবনের বড় অংশ হওয়ায়, দাম্পত্য বিশ্বাস বজায় রাখতে ডিজিটাল আচরণের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। ফলে এই রায় অন্য দেশগুলোতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।