মানুষ কি সত্যিই ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে? সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই প্রশ্নকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা মানুষের সর্বোচ্চ আয়ু কত হতে পারে তা জানার চেষ্টা করছেন। কেউ মনে করেন, ভবিষ্যতে চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মানুষের আয়ু অনেকটাই বাড়বে। আবার অন্যদের মতে, মানুষের শরীরের একটি স্বাভাবিক জৈবিক সীমা রয়েছে, যা খুব সহজে অতিক্রম করা সম্ভব নয়।

গবেষকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। তরুণ বয়সে শরীর খুব দ্রুত অসুখ, আঘাত বা ক্লান্তি থেকে সেরে উঠতে পারে। কিন্তু বয়স বাড়লে সেই ক্ষমতা কমতে থাকে। বিজ্ঞানীরা এই ক্ষমতাকে বলেন শরীরের ‘পুনরুদ্ধার ক্ষমতা’ বা রেজিলিয়েন্স। এই ক্ষমতা যত কমতে থাকে, শরীর ততই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মানুষের শরীরের এই পুনরুদ্ধার ক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর খুব দ্রুত কমতে শুরু করে। সেই কারণেই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মানুষের আয়ুর একটি প্রাকৃতিক সীমা রয়েছে। অনেক গবেষকের মতে, সেই সীমা প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে হতে পারে। অর্থাৎ মানুষ খুব ভাল স্বাস্থ্য, উন্নত চিকিৎসা ও ভাল জীবনযাপন পেলে ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে, কিন্তু তার বেশি বাঁচা প্রায় অসম্ভব।
তবে বাস্তবে এখনও পর্যন্ত এত দীর্ঘ আয়ু নিয়ে বেঁচে থাকার উদাহরণ খুবই কম। ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড রয়েছে ফরাসি নারী জিন ক্যালমেন্টের। তিনি প্রায় ১২২ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাই ১৫০ বছর পর্যন্ত মানুষের বেঁচে থাকা এখনও বাস্তবে দেখা যায়নি।


এই গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কোষ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। ফলে শরীর আগের মতো শক্তি ফিরে পায় না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জৈবিক পরিবর্তনই মানুষের আয়ুর সীমা নির্ধারণ করে।

তবে সব বিজ্ঞানী এই বিষয়ে একমত নন। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভবিষ্যতে জিন প্রযুক্তি, উন্নত ওষুধ, অ্যান্টি-এজিং থেরাপি বা কৃত্রিম অঙ্গের উন্নতির ফলে মানুষের আয়ু আরও বাড়তে পারে। প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, ততই মানুষের দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনাও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বেশি দিন বাঁচাই মূল লক্ষ্য নয়। বরং মানুষ যেন দীর্ঘদিন সুস্থ ও সক্রিয় জীবন কাটাতে পারে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিজ্ঞানীরা এখন এমন গবেষণায় জোর দিচ্ছেন, যাতে মানুষ বয়স বাড়লেও সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে পারে।

মানুষ ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে এই গবেষণা মানুষের আয়ু এবং বার্ধক্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। ভবিষ্যতের বিজ্ঞানই হয়তো এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেবে।