বর্ষা এলে বাড়তি আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ চোখের নানা সংক্রমণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস থেকে শুরু করে স্টাই পর্যন্ত—চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এই সময় চোখের সংক্রমণ রোধে পরিচ্ছন্নতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
সবচেয়ে সাধারণ সংক্রমণগুলির একটি হলো ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস, যা অনেকেই ‘আই ফ্লু’ নামে চেনেন। এই রোগ দ্রুত ছড়ায়, বিশেষ করে স্কুল, কলেজ এবং অফিসে। এর উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে—চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জল পড়া, ফোলা, স্রাব হওয়া এবং চোখে আঠালো ভাব তৈরি হওয়া।
ডা. অনিতা শেঠি বলেন, “আই ফ্লু অন্যের দিকে তাকিয়ে ছড়ায় না। এটি ছড়ায় সংক্রমিত নিঃসরণের সংস্পর্শে এসে। তাই হাত পরিষ্কার রাখা, চোখে হাত না দেওয়া এবং তোয়ালে বা রুমাল ভাগাভাগি না করাই সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
সিনিয়র ক্যাটারাক্ট ও রেটিনা সার্জন, ডা. পবন গুপ্তর মতে, বর্ষাকালে চোখের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো কনজাঙ্কটিভাইটিস ও স্টাই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “স্টাই আসলে চোখের পাতায় হওয়া একটি ছোট ফোঁড়া বা পুঁজভরা ফুসকুড়ি। যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। অন্যদিকে ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস অত্যন্ত সংক্রামক এবং সহজেই ছড়ায়, বিশেষ করে যখন হাত পরিষ্কার রাখা হয় না বা তোয়ালে-রুমাল ভাগাভাগি করা হয়।”
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিস নিজে থেকেই এক সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে ডা. অনিতা শেঠির মতে, গুরুতর সংক্রমণ দু’সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অনেক সময় এটি কর্নিয়াকেও প্রভাবিত করে, ফলে ঝাপসা দেখা বা আলো ঘিরে হ্যালো তৈরি হতে পারে—এ অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। তিনি আরও জানান, ডায়াবেটিস বা অ্যালার্জি-আক্রান্ত রোগীরা বিশেষভাবে সাবধানে থাকবেন। কারণ তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে এবং চোখ ঘন ঘন ঘষার কারণে তাঁরা বারবার স্টাই বা সংক্রমণে ভোগেন।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া তাই অত্যন্ত জরুরি। ডা. পবন গুপ্ত পরামর্শ দেন, “নিয়মিত হাত ধুতে হবে, চোখ ঘষা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কখনওই রুমাল, তোয়ালে বা বালিশ ভাগাভাগি করা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, সংক্রমণ ছড়ালে রোগীদের উচিত বাড়িতে থাকা, আরাম পাওয়ার জন্য ডার্ক গ্লাস ব্যবহার করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চলা। পাশাপাশি যাঁরা রোগীর যত্ন নেবেন বা চোখের ড্রপ দেবেন, তাঁদেরও হাত ভাল করে পরিষ্কার রাখা আবশ্যক।
সার্জারির ক্ষেত্রে বর্ষা নিয়ে এখনও নানা ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত। ডা. অনিতা শেঠি বলেন, “অনেকের মনে ধারণা আছে যে বর্ষাকালে ক্যাটারাক্ট অপারেশন করা উচিত নয়। আগে যখন সেলাই দিতে হত, তখন এ নিয়ে ঝুঁকি ছিল। কিন্তু এখনকার আধুনিক পদ্ধতিতে খুবই ছোট কাটা দিয়ে অপারেশন করা হয়, যা একেবারেই নিরাপদ—যদি রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মানা হয়।”
বর্ষায় চোখের যত্নে করণীয় ও বর্জনীয়
করণীয়
হাত ও চোখ পরিষ্কার রাখুন
রুমালের বদলে পরিষ্কার টিস্যু ব্যবহার করুন
পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন
উপসর্গ না কমলে চোখের চিকিৎসক দেখান
বর্জনীয়
নোংরা হাতে চোখ ঘষবেন না বা স্পর্শ করবেন না
মেকআপ, তোয়ালে বা বিছানার চাদর কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না
