কানে অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া বা ভোঁ-ভোঁ করা যাকে আমরা অনেক সময় অবহেলা করি, সেটি আসলে শরীরের কোনও গুরুতর সমস্যার সংকেত হতে পারে। সহজ কথায়, বাইরে কোনও শব্দ না থাকলেও যদি আপনার মনে হয় কানের ভেতরে কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে, ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছে কিংবা ভোঁ-ভোঁ শব্দ হচ্ছে, তবে তাকে ‘টিনিটাস’ বলে। এটি কোনও রোগ নয়, বরং শরীরের ভেতরের অন্য কোনও সমস্যার প্রকাশ। কখন এই শব্দ বিপজ্জনক হতে পারে? কয়েকটি লক্ষণ দেখে সতর্ক হন। 

কেবল একটি কানে শব্দ হওয়া: যদি আপনার দুই কানে শব্দ না হয়ে কেবল ডান বা বাঁ পাশের যে কোনও একটি কানে শব্দ হয়, তবে তা চিন্তার বিষয়। এটি কানের ভেতরের কোনও টিউমার বা স্নায়ুর সমস্যার কারণে হতে পারে। তাই এক কানে শব্দ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

হৃদস্পন্দনের মতো আওয়াজ: অনেকের কানে ঘড়ির কাঁটার মতো বা হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানির মতো ছান্দিক শব্দ হয়। একে ‘পালসাটাইল টিনিটাস’ বলে। এটি সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ বা শরীরের কোনও রক্তনালীতে বাধার সংকেত দেয়।

মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানো: কানে শব্দের পাশাপাশি যদি আপনার প্রচণ্ড মাথা ঘোরে বা সোজা হয়ে দাঁড়াতে সমস্যা হয়, তবে বুঝতে হবে কানের ভেতরের তরল পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। এটি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে শ্রবণশক্তি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

শুনতে সমস্যা হওয়া: যদি শব্দের তীব্রতা এত বেশি হয় যে আপনি চারপাশের সাধারণ কথা পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছেন না, তবে বুঝতে হবে কানের পর্দার বা স্নায়ুর কোনও ক্ষতি হচ্ছে।

কান দিয়ে জল বা পুঁজ পড়া: শব্দের সঙ্গে যদি কান ব্যথা করে বা কোনও তরল পদার্থ বের হয়, তবে তা কানের সংক্রমণের লক্ষণ। অবহেলা করলে এই সংক্রমণ কানের হাড় বা পর্দা নষ্ট করে দিতে পারে।

কেন এমন হয়? সাধারণত অতিরিক্ত আওয়াজে গান শোনা, বয়সজনিত সমস্যা, কানের ভেতরে খইল বা ময়লা জমা কিংবা দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহারের ফলে এটি হতে পারে। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও কানে শব্দ হতে পারে।

করণীয় কী

১. অতিরিক্ত আওয়াজ থেকে দূরে থাকুন।
২. হেডফোনের ভলিউম কমিয়ে শুনুন।
৩. কানে কাঠি বা অন্য কিছু দিয়ে চুলকাবেন না।
৪. সমস্যাটি টানা কয়েকদিন থাকলে ঘরোয়া চিকিৎসার বদলে একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সময়মতো চিকিৎসা করালে এবং জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।