হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিওর নীরব ঘাতক হয়ে শরীরে হানা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীরা বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের হার্টে সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এমন একেবারে সহজ একটি পরীক্ষা রয়েছে যা মাত্র ১৫–২০ মিনিটে হার্ট ফেইলিওরের সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে। আর সেই পরীক্ষাটি করা হয় গলার ধমনীর ওপর—যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ক্যারোটিড আল্ট্রাসাউন্ড নেক স্ক্যান নামে পরিচিত।
এই স্ক্যান মূলত গলার দুই পাশে থাকা ক্যারোটিড ধমনীর নমনীয়তা ও রক্তপ্রবাহ পরীক্ষা করে। ধমনীর দেয়াল শক্ত হয়ে গেলে বা ইলাস্টিসিটি কমে গেলে বিপদ বাড়ে। কারণ ধমনী শক্ত মানে রক্ত সহজে প্রবাহিত হতে পারে না, ফলে হৃদযন্ত্রকে রক্ত পাম্প করার সময় অতিরিক্ত চাপ নিতে হয়। দীর্ঘদিন এই চাপ পড়তে থাকলে ধীরে ধীরে হার্ট দুর্বল হতে শুরু করে এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাদের গলার ধমনী তুলনামূলক কম নমনীয়, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী কয়েক বছরে হার্ট ফেইলিওরের আশঙ্কা প্রায় দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এই ঝুঁকি অনেক সময় বাইরের লক্ষণ দিয়ে বোঝা যায় না। হালকা ক্লান্তি, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, ব্যায়াম করতে গেলে অস্বস্তি-এই ছোট লক্ষণগুলোই আসলে বড় বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই গলার এই আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান চিকিৎসকদের কাছে একটি কার্যকর ‘প্রাথমিক সতর্কীকরণ’ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
পরীক্ষাটি পুরোপুরি নন-ইনভেসিভ অর্থাৎ শরীরে কোনও সূচ বা রক্ত নেওয়ার ঝামেলা নেই। একটি ছোট হ্যান্ডহেল্ড আল্ট্রাসাউন্ড ডিভাইস গলার ওপর চালিয়ে ধমনীর ছবি নেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়া ব্যথাহীন এবং খুব দ্রুত শেষ হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ৫০ বা ৬০ বছরের পরে এই স্ক্যানটি বছরে একবার করালে হার্টের সম্ভাব্য সমস্যা আগেভাগেই ধরা সম্ভব। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা ধূমপানের অভ্যাস আছে-তাঁদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা জরুরি।
মাত্র কয়েক মিনিটের এই গলার পরীক্ষা ভবিষ্যতের বিপদ অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিওর এড়াতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। সহজ পরীক্ষাটি আপনার বার্ষিক হেলথ চেকআপে যুক্ত করতে পারেন।
গবেষণা বলছে, ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়ার কারণ হল শরীরে প্লাক বা ফ্যাট জমে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং অনিয়মিত জীবনযাপন। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, কম নুন যুক্ত খাবার, ফল-সবজি বেশি খাওয়া, ধূমপান ও অ্যালকোহল কমানো-এসব অভ্যাস ধমনীকে সুস্থ রাখে।
















