বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বা কাজের চাপ কমাতে ‘মদ্যপান’ এখন কমবয়সিদের মধ্যে সাধারণ অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই মনে করেন, দিনে এক গ্লাস মদ্যপান করলে তেমন কোনও ক্ষতি হয় না। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধারণা একেবারেই ভুল। নিয়মিত দিনে মাত্র ১ গ্লাস মদ খাওয়াও ধীরে ধীরে মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, অ্যালকোহল শরীরে প্রবেশ করার পর ভেঙে গিয়ে একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়, যার নাম অ্যাসিট্যালডিহাইড। এই রাসায়নিক মুখের ভেতরের নরম কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রথমে কোনও সমস্যা বোঝা যায় না, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এই ক্ষতি জমতে জমতে একসময় ক্যানসারের রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখের ভেতর, জিহ্বা, মাড়ি এবং গলার অংশ সরাসরি অ্যালকোহলের সংস্পর্শে আসে। তাই এই জায়গাগুলিতে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। অনেকেই মনে করেন, ধূমপান করলে তবেই মুখের ক্যানসার হয়। কিন্তু বাস্তবে, ধূমপান না করলেও শুধু মদ খাওয়ার কারণেই মুখের ক্যানসার হতে পারে। ধূমপান আর মদ একসঙ্গে চললে ঝুঁকি আরও অনেক গুণ বেড়ে যায়।
মুখের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, শুরুতে লক্ষণ খুব হালকা থাকে। তাই অনেকেই গুরুত্ব দেন না। সেক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন তা হল-
* মুখের ভিতরে বা জিহ্বায় ঘা, যা ২–৩ সপ্তাহেও সারে না।
* মুখের ভিতরে সাদা বা লাল রঙের দাগ
* খাবার চিবোতে বা গিলতে অসুবিধা
* কথা বলতে গিয়ে অস্বস্তি বা গলার স্বরে পরিবর্তন
* মুখ বা জিহ্বার কোনও অংশে অবশভাব
* দাঁত হঠাৎ ঢিলে হয়ে যাওয়া বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া।
এই লক্ষণগুলির কোনওটি যদি দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া খুব জরুরি।
কেন ‘এক গ্লাস’ও নিরাপদ নয়? চিকিৎসকরা স্পষ্ট মত, ক্যানসারের ক্ষেত্রে মদের কোনও নিরাপদ মাত্রা নেই। অর্থাৎ যত কম মদ খাবেন, ততই ঝুঁকি কমবে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে মদ খাওয়াও শরীরের ক্ষতি করতে পারে।
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন? ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকেরা সহজ পরামর্শ দেন, যেমন- মদ্যপান কমানো বা পুরোপুরি বন্ধ করা, ধূমপান একেবারে এড়িয়ে চলা, নিয়মিত দাঁত ও মুখের যত্ন নেওয়া, মুখের ভেতরে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলেই দ্রুত ডাক্তার দেখানো।
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা আর সময়মতো চিকিৎসাই মুখের ক্যানসার থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই ছোট ছোট অভ্যাস বদলালে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
