ক্যানসার। শব্দটি শুনলেই যেন গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসে। এই মারণব্যাধি মহামারির চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, পৃথিবীতে মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ ক্যানসার। ক্রমশ লাফিয়ে বাড়ছে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করলে মারণ রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষ করে সঠিক সময়ে মারণ রোগকে শনাক্ত করা জরুরি। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো রোগীর জীবনকে বিপদে ফেলে। অনেক মানুষ এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই রোগী ভয় পান বা সময় নষ্ট করেন। এতেই দ্রুত মারণ রোগের বিষ ছড়িয়ে পড়ে। আজ বিশ্ব ক্যানসার দিবসে জেনে নিন তেমনই কয়েকটি ভুল ধারণার বিষয়ে।

১. ক্যানসার মানেই মৃত্যুর ঝুঁকিঃ অনেকেই ভাবেন ক্যানসার ধরা পড়লেই জীবন শেষ। সত্যি হল, শুরুতে ধরা পড়লে অনেক ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। বিশেষত স্তন, অন্ত্র, প্রস্টেট বা গলার ক্যানসার। ৮০–৯০% রোগী সঠিক চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে যায়।

২. শুধু জিনের কারণে হয়ঃ ক্যানসার শুধু জিনের কারণে হয় না। ধূমপান, মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, পরিবেশ- সবই ক্যানসারের কারণ হতে পারে। শুধু পরিবারে কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। 

৩. স্ক্রিনিং ব্যথাদায়ক বা ব্যয়বহুলঃ স্ক্রিনিং পরীক্ষা যেমন ম্যামোগ্রাম, প্যাপ স্মিয়ার, কোলন স্ক্যান- আজ অনেক সহজ, কম ব্যয়বহুল এবং তুলনামূলক কম ব্যথাদায়ক। সময়মতো স্ক্রিনিং ক্যানসার শনাক্ত করে জীবন বাঁচায়।

৪. কোনও উপসর্গ না থাকলে ক্যানসার নেইঃ ক্যানসার প্রাথমিকভাবে অনেক সময় লক্ষণ দেখায় না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং করা জরুরি।

৫. ক্যানসার নিয়ে কথা বললে বেড়ে যায় বা অশুভঃ কিছু সংস্কৃতিতে ক্যানসার নিয়ে কথা বলা লজ্জাজনক মনে হয়। কিন্তু খোলাখুলি আলোচনা করলে মানুষ সচেতন হয়, সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে সাহস পায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সঠিক জীবনধারা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সচেতনতা থাকলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। যার জন্য প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্ত করা সবচেয়ে জরুরি। তবেই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।