পেট ব্যথা, গ্যাস, পেট ফুলে থাকা, কখনও ডায়রিয়া আবার কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য-অনেকেই নিত্যদিন এই সমস্যায় ভোগেন। যা চিকিৎসকেরা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) হিসেবে ব্যাখ্যা করে থাকেন। শহরের জীবনযাত্রায় এই সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বহু মানুষ নিয়ম মেনে ডায়েট করেও পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছেন না। কিন্তু কেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক-
বিশেষজ্ঞের মতে, আইবিএস শুধু খাবারের রোগ নয়। এটি আসলে পেট, মস্তিষ্ক ও হরমোনের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফল। তাই শুধু কোন খাবার খাচ্ছেন বা বাদ দিচ্ছেন, সেটার উপর সব কিছু নির্ভর করে না। আইবিএস-এর মূল কারণ হল দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা হলে শরীর সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকে। এতে হজমের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাসিড ও এনজাইম ঠিকমতো তৈরি হয় না। ফলস্বরূপ খাবার হজমে সমস্যা হয়, পেট ফুলে ওঠে ও ব্যথা শুরু হয়।
এছাড়াও হরমোনের গোলমাল যেমন থাইরয়েডের সমস্যা, পিসিওএস বা মাসিকের অনিয়ম আইবিএ,-এর উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আগের কোনও পেটের সংক্রমণ বা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর অন্ত্র খুব সংবেদনশীল হয়ে যায়।
কেন সঠিক ডায়েটে স্বস্তি মেলে না? অনেক আইবিএস রোগী রোগী একের পর এক খাবার বাদ দিতে থাকেন। দুধ, আটা-ময়দা কিংবা মশলা-সব বাদ দিয়েও লাভ হয় না। পুষ্টিবিদের মতে, এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা আরও জটিল হয়। কারণ বেশি খাবার বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না, হজম ক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানসিক চাপ বেড়ে যায়। ফলে কিছুদিন ভাল থাকলেও উপসর্গ আবার ফিরে আসে।
আরোগ্যের সঠিক পথ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, আইবিএস ঠিক করতে হলে আগে শরীর ও মনকে শান্ত করতে হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে হজম ক্ষমতা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার দিকে নজর দিতে হবে। যার জন্য নিয়ম মেনে, সময় ধরে খাবার খাওয়া, খুব ঠান্ডা, কাঁচা ও অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার খাওয়া কমানো, খাবার ধীরে ধীরে ভাল করে চিবিয়ে খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা শরীরচর্চা, মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা-এই সব নিয়ম মেনে চললে উপকার পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, আইবিএস কোনও একদিনে হওয়া বা সেরে যাওয়ার রোগ নয়। শুধু ডায়েট নয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এই সমস্যার আসল সমাধান। শরীরকে সময় ও যত্ন দিলে ধীরে ধীরে এই সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব।
