ক্যানসার। শব্দটি শুনলেই যেন গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসে ভয়। এই মারণব্যাধি মহামারির চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, পৃথিবীতে মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ ক্যানসার। ক্রমশ লাফিয়ে বাড়ছে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করলে মারণ রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, প্রায় ৪০% ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য। যার জন্য কয়েকটি সাধারণ ভুল অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে এবং জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। 

চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার শুধুমাত্র বয়স বা বংশগত কারণে হয় না। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, খাবার, পরিবেশ এবং ছোট ছোট অভ্যাসও অনেক ক্ষেত্রে এই মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। যেমন-

ধূমপান ও তামাক সেবনঃ সিগারেট ও তামাকের ধোঁয়া ফুসফুস, গলা, মুখ, কিডনি ও প্যানক্রিয়াসে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

অতিরিক্ত মদ্যপানঃ অ্যালকোহল শরীরে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি করে, যা লিভার, কোলন, গলা ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

খারাপ খাদ্যাভ্যাসঃ প্রক্রিয়াজাত খাবার, রেট মিট, বেশি তেল ও চিনিযুক্ত খাবার কোলন ক্যানসার সহ অনেক ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

অলস জীবনযাপনঃ ব্যায়াম না করা, বেশি বসে থাকা ও স্থূলতা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

সূর্যের অতিরিক্ত আলোঃ ইউভি রশ্মি ত্বকে ক্যানসারের কারণ হতে পারে। সানস্ক্রিন ব্যবহার ও সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা জরুরি।

সংক্রামক ভাইরাসঃ এইচপিভি বা হেপাটাইটিস বি/সি ভাইরাস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এইচপিভি বিশেষ করে জরায়ু ও স্তন ক্যানসারের সঙ্গে যুক্ত।

পরিবেশ দূষণঃ বায়ুদূষণ, রাসায়নিক বাষ্প ও ঘরের ধোঁয়া কোষে ক্ষতি করে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। 

বংশগত কারণঃ পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে সব ক্ষেত্রে নয়।

বয়স ও জিনগত পরিবর্তনঃ বয়স বাড়ার সঙ্গে কোষের ডিএনএ পরিবর্তিত হতে থাকে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্বাস্থ্য উপেক্ষাঃ নিয়মিত পরীক্ষা না করা, উপসর্গ উপেক্ষা বা রোগ শনাক্ত করতে দেরি করলে ক্যানসার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। 

ক্যানসারকে রুখতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান, ডায়েটে বেশি ফল, সবজি ও হালকা খাবার রাখুন। নিয়মিত ব্যায়াম ও সক্রিয় জীবনযাপন করুন। ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা পেতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সংক্রামক ভাইরাস যেমন এইচপিভি, হেপাটাইটিস টিকা নিন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। 

ক্যানসার ভয়ঙ্কর হলেও অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য। আমাদের জীবনধারা ও অভ্যাস পরিবর্তন করলে ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব। সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত পরীক্ষা–নিরীক্ষাই ক্যানসার থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।