রাগ কেবল মানসিক প্রতিক্রিয়া নয়, এটি সরাসরি শরীরের ওপরও প্রভাব ফেলে, এমনই দাবি সাম্প্রতিক এক গবেষণার। গবেষকদের মতে, মাত্র ৮ মিনিটের তীব্র রাগ রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং এর প্রভাব প্রায় ৪০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গবেষণায় ২৮০ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের রাগ বাড়িয়ে দেয় এমন কিছু স্মৃতি মনে করতে বলা হয়। এরপর তাদের রক্তনালির কার্যকারিতা মাপা হয়। দেখা যায়, রাগের পর রক্তনালির প্রসারণ ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। অর্থাৎ রক্তনালি স্বাভাবিকভাবে যেমন প্রসারিত হয়ে রক্ত চলাচল সহজ করে, রাগের পরে তা বাধাগ্রস্ত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তনালির ভেতরের আস্তরণ বা এন্ডোথেলিয়াম রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাগের সময় এই আস্তরণ সাময়িকভাবে শক্ত হয়ে যায় এবং নমনীয়তা কমে যায়। ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে না। যদিও একবার রেগে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বড় বিপদ ঘটে যায় এমন নয়, তবে নিয়মিত তীব্র রাগ হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, দুঃখ বা উদ্বেগের মতো আবেগ রক্তনালির উপর একই রকম প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ রাগের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিকর। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

গবেষণার এই বার্তা স্পষ্ট যে রাগকে হালকা করে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল মনের নয়, শরীরেরও বিষয়। তাই সুস্থ হৃদযন্ত্র ও রক্তনালি বজায় রাখতে আবেগ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।