তেজপাতা আমাদের সকলের রান্নাঘরেই সহজলভ্য একটি মশলা। সাধারণত ডাল, সবজি, পোলাও বা বিরিয়ানিতে সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়ানোর জন্য তেজপাতার ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই তেজপাতা দিয়ে তৈরি চা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। তেজপাতার চা একটি প্রাকৃতিক, আয়ুর্বেদিক ও ঘরোয়া পানীয়, যা শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

তেজপাতা কী

তেজপাতা একটি সুগন্ধযুক্ত পাতা। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বহুদিন ধরেই হজমের সমস্যা, সর্দি-কাশি এবং শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে তেজপাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ, যা শরীরকে নানা দিক থেকে উপকার করে।

কীভাবে বানাবেন তেজপাতার চা

তেজপাতার চা তৈরি করা খুবই সহজ এবং এর জন্য বিশেষ কোনও উপকরণের প্রয়োজন হয় না।
উপকরণ:
এক থেকে দু’টি তেজপাতা
এক কাপ জল
স্বাদ অনুযায়ী মধু বা গুড়

প্রথমে জল ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত জলে তেজপাতা দিয়ে পাঁচ থেকে সাত মিনিট হালকা আঁচে ফুটতে দিন। এরপর ছেঁকে নিয়ে চাইলে সামান্য মধু বা গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন। এই চা সকালে খালি পেটে বা বিকেলের দিকে পান করা যেতে পারে।

তেজপাতার চায়ের উপকারিতা

তেজপাতার চা হজমতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি গ্যাস, বদহজম, পেট ফোলা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ভারী খাবারের পর যদি পেটে জ্বালা বা অস্বস্তি হয়, তাহলে তেজপাতার চা একটি কার্যকর ঘরোয়া উপায় হতে পারে। এটি পেট পরিষ্কার রাখে এবং খিদে নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

বর্তমান সময়ে ওজন বৃদ্ধি একটি সাধারণ সমস্যা। তেজপাতার চা মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ধীরে ধীরে কমতে পারে। নিয়মিত এই চা পান করলে খিদে নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বারবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও তেজপাতার চা উপকারী হতে পারে। এতে থাকা কিছু উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তবে এটিকে কোনওভাবেই ওষুধের বিকল্প হিসাবে না ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করাই শ্রেয়।

শীতকালে তেজপাতার চা বিশেষভাবে উপকার দেয়। এর উষ্ণ প্রকৃতি সর্দি, কাশি, ঠান্ডা লাগা ও গলা ব্যথার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। চায়ের সঙ্গে সামান্য আদা বা তুলসি পাতা যোগ করলে এর উপকারিতা আরও বেড়ে যায়।

তেজপাতার চা উপকারী। তবে অতিরিক্ত সেবন ক্ষতিকর হতে পারে। দিনে এক থেকে দু’কাপের বেশি না পান করাই ভাল। গর্ভবতী মহিলা বা যাঁরা কোনও গুরুতর রোগে ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত তেজপাতার চা পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।