মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মধ্যে কিডনি অন্যতম। রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বার করা, শরীরের বর্জ্য অপসারণ করা এবং শরীরে তরল ও প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, এইসব গুরুত্বপূর্ণ কাজই করে কিডনি। তবে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, বিশৃঙ্খল জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার কারণে দ্রুত বাড়ছে কিডনি রোগের ঝুঁকি। উদ্বেগের বিষয় হল, প্রাথমিক উপসর্গগুলি সাধারণত হালকা হওয়ায় অনেকেই সেগুলি গুরুত্ব দেন না।

গুজরাটের ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বহু রোগীই কিডনির সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারেন তখনই, যখন রোগ অনেকটা এগিয়ে যায়। চিকিৎসক জোসেফ ভাসালোট্টি জানিয়েছেন, খুব কম মানুষই প্রাথমিক উপসর্গ চিনতে পারেন এবং সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শরীরের সামান্য অস্বস্তিকেও হেলাফেলা করা উচিত নয়।

কিডনির সমস্যার অন্যতম প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ হল দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি দুর্বল লাগে বা শক্তির ঘাটতি অনুভূত হয়, তবে তা কিডনির সঠিকভাবে কাজ না করার ইঙ্গিত হতে পারে। রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমতে শুরু করলে শরীরের শক্তি কমে যায়। অনেকেই একে দৈনন্দিন চাপ বা পরিশ্রমের ফল ভেবে এড়িয়ে যান।

ঘুমের সমস্যাও কিডনি বিকলের সতর্কবার্তা হতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া বা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম না হওয়া কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসের লক্ষণ। প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া, রক্ত পড়া, ফেনা বা বুদবুদ দেখা গেলে তা প্রস্রাবে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।

ত্বকের সমস্যাও কিডনির অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া, তীব্র চুলকানি বা র‌্যাশ দেখা দেওয়া, এসবই খনিজের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার লক্ষণ। কারও কারও ক্ষেত্রে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকিও থাকে। বিশেষ করে সকালে চোখের চারপাশে ফোলা ভাব দেখা গেলে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন ক্ষয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।

এছাড়া পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলা, খিদে কমে যাওয়া এবং ঘন ঘন পেশিতে টান ধরা, এই উপসর্গগুলিও কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে কিডনি রোগের অগ্রগতি অনেকটাই রোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।