কফিকে অনেকেই লিভারের জন্য একপ্রকার ‘অমৃত’ বলে মনে করেন। বহু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের মতে, নিয়মিত কফি পান করলে ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি কমে এবং কিছু ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতিও ধীর হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, দিনে অন্তত দু’কাপ কফি পান করলে প্রায় সব ধরনের লিভার রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

তবু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেছেন, ইনস্ট্যান্ট কফি পান করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনে ইনস্ট্যান্ট কফি পছন্দের পানীয় হওয়ায় এই দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কিন্তু সত্যিই কি ইনস্ট্যান্ট কফি ক্যানসারের কারণ হতে পারে?

ইনস্ট্যান্ট ব্ল্যাক কফি কি ক্যানসার ডেকে আনে?

এই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে ডা. শুভম বৎস্য জানান, এই দাবি আসলে অপ্রাসঙ্গিক একটি ভাসমান মিথ।ইনস্ট্যান্ট কফিতে অ্যাক্রিলামাইড থাকে ঠিকই। কিন্তু শরীরে ক্ষতিকর মাত্রায় পৌঁছতে হলে দিনে সাত-আটটি পাউচ কফি খেতে হবে বা টানা ২০–২৫ ঘণ্টা কফি পান করতে হবে, যা বাস্তবে অসম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক মাত্রায় কফি পান করলে লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, ফ্যাটি লিভার ও সিরোসিসের ঝুঁকি কমে এবং হৃদযন্ত্রের উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, “সব ক্ষেত্রেই ভয় নয়, পরিমাণই ঝুঁকি নির্ধারণ করে।” 

২০২৫ সালের ক্যানসার ও ইনস্ট্যান্ট কফির যোগসূত্রকে ‘সবচেয়ে বড় মিথ’ বলে উল্লেখ করেন ডা. বৎস্য। তাঁর ব্যাখ্যা, ইনস্ট্যান্ট কফির পাউচে অ্যাক্রিলামাইড থাকে বলেই অনেকে ধরে নিচ্ছেন এটি ক্যানসারের কারণ। কিন্তু বাস্তবে, ইনস্ট্যান্ট কফিতে সদ্য তৈরি বা গ্রাউন্ড কফির তুলনায় অ্যাক্রিলামাইডের পরিমাণ কিছুটা বেশি হলেও, বিষাক্ত মাত্রায় পৌঁছতে হলে আট–দশ পাউচ কফি পান করতে হবে।

সাধারণত একজন কফিপ্রেমী দিনে দু’তিন পাউচের বেশি কফি খান না। ফলে এই অ্যাক্রিলামাইড থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি কার্যত নগণ্য বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
ডা. বৎস্য আরও জানান, নিয়মিত যাঁরা ব্ল্যাক কফি পান করেন, তাঁদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এমনকি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও কম দেখা যায়। তাঁর পরামর্শ, “নিয়ম করে দিনে দু’চার কাপ কফি পান করুন, আর ভিত্তিহীন ভয় বা গুজবে কান দেবেন না।”

কফি পান নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, সব কিছুর মতোই এখানেও পরিমিতিবোধই সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।